ডাকসু নেত্রী তন্বী:
শিবির ব্যক্তিগত জীবনাচরণে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনার এক জামায়াত নেতার বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে ধারাবাহিক হয়রানি ও চরিত্রহননের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী।
সম্প্রতি বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান এক বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে ‘বেশ্যাখানা’ আখ্যা দিলে তা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ বক্তব্যকে কুরুচিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং ওই জামায়াত নেতার কুশপুতুল দাহ করেন।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী। তিনি জুলাই মাসে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও জানা যায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে সংগঠিতভাবে আক্রমণ, কটূক্তি ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এক ফেসবুক পোস্টে সানজিদা আহমেদ তন্বী বলেন, বরগুনার এক জামায়াত নেতা সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। তার মতে, “আমার মনে হয়েছে, আমার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এটি অগ্রহণযোগ্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য। সেই কারণেই আমি এবং আমার মতো আরও অনেকে প্রতিবাদে নেমেছিলাম। এটি কোনো নির্বাচন, আদর্শ বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়; শুধুই আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে নোংরা মন্তব্যের প্রতিবাদ।”
তন্বী অভিযোগ করেন, তার এই প্রতিবাদ শিবির ও শিবিরপন্থীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলেন, “আমার বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিবিরকর্মী ও শিবিরমনারা বিষয়টা নিতে পারেনি। এর কিছু নমুনা আমি স্ক্রিনশটসহ দিয়েছি। শিবিরের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পার পেয়েছেন-এমন মেয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তো দূরের কথা, সারা দেশেই আছে কি না সন্দেহ। সেই তুলনায় আমারটা কমই বলা যায়।”
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, গল্প ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে। “জেলা পর্যায়ের অনেকে সরাসরি গালি দিচ্ছেন, আর শহুরে বা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সিম্প্যাথাইজাররা একটু ঘুরিয়ে, ভিন্ন ভাষায় একই কাজ করছেন,”-যোগ করেন তিনি।
শিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তন্বী বলেন, একসময় সংগঠনটি নির্যাতিত ও মজলুম ছিল-এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার ভাষায়, “সুযোগ পেয়ে, পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে পেয়ে এরাও কি বাড়াবাড়ি করছে না? মানুষ একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলেই বা ভিন্ন মত দিলেই তেড়ে আসে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো-মানুষের ব্যক্তিগত জীবনাচরণে নগ্ন হস্তক্ষেপ।”
সামাজিক মাধ্যমে নারীদের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে ধরনের আক্রমণ হয়, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন ডাকসু নেত্রী। তিনি বলেন, ভিন্নমত মানার সংস্কৃতি না থাকলে ভবিষ্যতে আরও সংকট তৈরি হবে।
সবশেষে সানজিদা আহমেদ তন্বী বলেন, “যাই হোক, আপনারা মনের জ্বালা মেটাতে গালি দেন, তাও শান্তিতে থাকেন। এসব গালিতে খুব একটা কিছু হয় না আমার। আমি বেশ শক্ত ধাচের মানুষ। ছাত্রলীগও আমার আহতের ছবি নিয়ে কম নোংরামি করেনি। দুই গোষ্ঠীকে এক পাল্লায় মাপতে হচ্ছে-এটাই বাস্তবতা।”
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের সম্মান রক্ষায় এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা বলছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে তা যেন কখনোই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার হাতিয়ার না হয়।
ভিওডি বাংলা/জা







