রুহুল কবির রিজভী:
জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন

বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিএনপি তীব্র সমালোচনা করেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি রাজনৈতিক দলের আচরণ সন্দেহজনক, এবং তারা দেশকে কোন দিকে নিতে চায় তা নিয়ে নিজেরাই বিভ্রান্ত। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের ভেতরে কোনো বিশেষ ‘কর্মপরিকল্পনা’ রয়েছে যা সাধারণ মানুষ ও দেশের নারীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

রিজভী জানান, জামায়াতের দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি বিশেষভাবে নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে দলের অবস্থানকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথমে দলটি নারীদের কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টা করতে চাইলো, কিন্তু পরবর্তীতে আল-জাজিরা সম্প্রচারে তারা বলেছে এটি বলা হয়নি। জামায়াত প্রধানও প্রকাশ্যে জানিয়েছে, নারীদের উচ্চপদে যাওয়া কোনো পরিস্থিতিতে তারা অনুমোদন দেবে না।
তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নারীদের অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “এই শক্তি ক্ষমতায় এলে নাগরিক অধিকার আদৌ থাকবে কি না?” রিজভী আরও মন্তব্য করেন, জামায়াত নিজেদের সম্পর্কে কখনো কোনো শুভচিন্তার কথা প্রকাশ করে না, বরং চাটুকারিতার ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একটি ‘গোপন চিঠি’র কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নাহের ইসলাম নামের এক নারী শিক্ষিকাকে ওই চিঠির মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্মের দোহাই দিয়ে বিএনপির নারী সমর্থকদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজ নারীদের দিয়ে ভোট চালাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন নারীরা।”
রিজভী আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে জামায়াত ‘ইতর ব্যবহার’ করছে। তিনি বলেন, প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল জোরপূর্বক নির্বাচনী অফিস স্থাপন করছেন এবং দলীয় প্রার্থীকে সমর্থনকারী নারীদের ওপর হুমকি ও চাপে রাখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, “জামায়াতের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীদের জন্য বিপজ্জনক। তাদের নীতিমালা ও পরিকল্পনা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
রিজভীর এই মন্তব্য নির্বাচনী প্রচারণার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বহন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সচেতনভাবে ভোট প্রদান করবে এবং নারী অধিকারকে সুরক্ষিত রাখবে।
ভিওডি বাংলা/জা







