কঙ্গোতে কোলটান খনিতে ভয়াবহ ধস, মৃত্যু ২শ’

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায় একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিদ্রোহীদের নিয়োগ করা প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) খনিটিতে হঠাৎ ভূমিধস ঘটে। সে সময় ভেতরে কাজ করছিলেন শত শত শ্রমিক। ধসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অন্তত ২০০ জন। নিহতদের মধ্যে কেবল খনি শ্রমিকই নন, আশপাশে অবস্থান করা নারী ও শিশুরাও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
গভর্নরের মুখপাত্র মুইসা জানান, কিছু মানুষকে ধসের পরপরই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তাঁদের অধিকাংশই গুরুতর আহত। বর্তমানে অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধার কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে গভর্নরের এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ২২৭ জন। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য দেন।
রুবায়া অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোলটান উৎপাদন এলাকা। এখান থেকেই বিশ্বের মোট কোলটানের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ হয়ে থাকে। কোলটান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যান্টালাম তৈরি করা হয়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খনিগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন মাত্র কয়েক ডলারের বিনিময়ে শ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে হাতে খননকাজ করেন। বর্ষাকালে নর্থ কিভু প্রদেশের মাটি অত্যন্ত নরম ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভুক্তভোগীরা গর্তের ভেতরে কাজ করার সময়ই মাটি ধসে পড়ে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে রুবায়ার এই খনি এলাকা এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘের অভিযোগ, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী রুবায়ার খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের সশস্ত্র কার্যক্রমে অর্থায়ন করছে, যা প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডার সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও রুয়ান্ডা সরকার এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।
এই দুর্ঘটনা ডিআর কঙ্গোর খনি শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা ও অবৈধ খনিজ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে তুলে ধরেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







