• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মির্জা আব্বাস:

ভোটের ফল দিতে দেরি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪০ পি.এম.
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস-ফাইল ছবি

ভোটের ফলাফল ঘোষণায় অযৌক্তিক বিলম্ব হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ফল ঘোষণায় দেরি মানেই অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে ঢাকা-৮ আসনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন বলছে ভোটের ফল প্রকাশে তিন দিন সময় লাগবে। প্রশ্ন হলো-কাকে জেতানোর জন্য এত সময় প্রয়োজন? এর পেছনে কারা কাজ করছে, তা সরকারকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানাই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি ভোটের ফল ঘোষণায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে ভেতরে অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে। সে ধরনের ফলাফল বিএনপি মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের কারচুপি বা অসততার মাধ্যমে অর্জিত ফলের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনও বন্ধ হয়নি দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু সহ্য করছি, কিন্তু সবাইকে বলব-ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবেন না। আমরা পরিচ্ছন্ন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।

সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, কিছু ছেলেপেলে হঠাৎ করেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। বড় বড় কথা বলে, অথচ ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নেয় কি না, সেটারও খবর নেই। পৃথিবীতে তাদের আর কোনো কাজ নেই, শুধু মির্জা আব্বাসকে গালি দেওয়া। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ আমাকে চেনে, ব্যবসায়ীরা আমাকে চেনে। ঢাকা-৮ একটি ব্যবসায়ী জোন। ওই বিশেষ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না যে মির্জা আব্বাস তাদের কাছ থেকে এক কাপ চা পর্যন্ত খেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার হাত থেকে যেমন দেশকে রক্ষা করা হয়েছে, তেমনি এসব অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, এই নির্বাচন অনেক সংগ্রাম করে আদায় করতে হয়েছে। কেউ আমাদের দান করে দেয়নি। কিছু ছেলেপেলে মনে করে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারাই সব করেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো-গত ১৭ বছর আমরা কী করেছি? আমরা বরং তাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেছি, সবাই মিলে সমর্থন দিয়েছি বলেই ২০২৪ সালে পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যাওয়ার পর মানুষের যতটা ভালো থাকার কথা ছিল, বাস্তবে ততটা ভালো নেই। দ্রব্যমূল্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখনো স্বস্তিদায়ক হয়নি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিএনপিকে নির্বাচনে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ১২ তারিখে ভোটাধিকার ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কারণ ওই দিন ঘিরে খারাপ কিছু হতে পারে-এমন শঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল নাকি ৪০ লাখ বোরকা তৈরি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এসব বিষয়কে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

শেষে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান
সিরাজগঞ্জে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান
জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নির্বাচনে জয় সম্ভব নয়
তারেক রহমান: জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নির্বাচনে জয় সম্ভব নয়
বোরকা পরে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে
মির্জা আব্বাস: বোরকা পরে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে