পাংশায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারে বাধা প্রদানের অভিযোগ

রাজবাড়ী-২ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাসিরুল হক সাবুর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের ভট্টাচার্যপাড়া গ্রামে বাবুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক” বলে দাবি করেছেন নেতৃবৃন্দ।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর কন্যা ফারজানা হক অনির করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নে ‘কলস’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণাকালে ধানের শীষের কর্মী পরিচয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তোতা মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ওরফে আরিফ জোরপূর্বক প্রচার মাইকের মেমোরি কার্ড কেড়ে নেন। এতে প্রচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুনরায় প্রচারণার চেষ্টা করলে ভ্যানচালক নাসিরকে হত্যার হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ২৭ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পাংশা উপজেলার ভট্টাচার্যপাড়া এলাকায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থক পরিচয়ে আশরাফুল ইসলাম ওরফে আরিফ ও মকবুল খাঁর ছেলে মিল্টনসহ কয়েকজন ব্যক্তি আবারও প্রচার মাইকের মেমোরি কার্ড কেড়ে নিয়ে প্রচারণা বন্ধ করে দেন এবং ভ্যানচালককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী।
এ অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, বাবুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ ও অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম ওরফে আরিফ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাসিরুল হক সাবুর কন্যা ফারজানা হক অনি যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাদের ধানের শীষের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এ অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।’
অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম ওরফে আরিফ বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি ধানের শীষের প্রার্থীর সহধর্মিণীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। স্বতন্ত্র প্রার্থীর একজন কর্মীর বাড়িতে বোমা মারার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও মিথ্যা। যদি কেউ এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকে, তাদের বিচার হোক—আমি জড়িত থাকলে আমারও বিচার হবে।’
এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর (কলস মার্কা) প্রচার মাইকের ভ্যানচালক মো. নাসির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বলেন, ‘আমার প্রচার মাইকে কোন হামলা চালানো হয়নি। আর যেদিনের কথা বলা হয়েছে সেদিন আমি প্রচারের ভ্যান চালাইনি, ওইদিন আমি আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলাম। আমাকে কেউ হত্যার হুমকিও দেয়নি। এ সব কিছু মিথ্যা, সত্যটা প্রকাশ করার জন্যই আমি এখানে এসেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাবুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. খবির উদ্দিন আহম্মেদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম পেনু, বাবুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. আইয়ুব আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিঠু রানা, ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক থাকবে।
ভিওডি বাংলা/ এস কে পাল সমীর/ আ







