ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার কাঠামোগত সক্ষমতা ও পরিধি বাড়ানোর জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা ছয় একর জমি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-র অনুকূলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে পূর্বাচলের বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিউশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ১৯৭৫ সালের জুলাই–আগস্টে আত্মত্যাগকারী শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখা সম্ভব হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই দেশের জনগণের প্রধান প্রত্যাশা এবং আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষা।”
সমাপনীতে জানানো হয়, ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মোট ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। ইপিবি জানায়, গত বছরের তুলনায় এবারের বিক্রি ৩.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বছর মেলায় সিঙ্গাপুর, হংকং, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ মোট আটটি দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ এসেছে। অর্ডারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বহুমুখী পাটজাত পণ্য, তাঁতবস্ত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কসমেটিকস এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য।
বাণিজ্য উপদেষ্টা মেলার যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “সড়ক সংস্কারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে মেলায় যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গৃহস্থালি, শিল্প, ভোগ্যপণ্য ও সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যের সমাহার নাগরিকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। এটি দেশের জাতীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেয় এবং নতুন উদ্ভাবনে অনুপ্রাণিত করে। যারা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মেলায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্য সাশ্রয়ী বা বিনামূল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইপিবি বোর্ডে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
সমাপনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান, ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হুসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এবারের মেলায় মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানও ছিল। নতুন পণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল অধিদপ্তর, জয়িতা ফাউন্ডেশন, বিসিক, তাঁত বোর্ড, জেডিপিসি, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড এবং বাংলাদেশ টি-বোর্ড। এছাড়া অংশগ্রহণ ও পণ্যের মান বিবেচনায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
ভিওডি বাংলা/ আ







