প্রথমবার যশোরে তারেক রহমান, জনসভাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

প্রথমবারের মতো যশোর সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিনি যশোরে একটি বড় নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন। এর আগে একই দিন সকালে খুলনায় আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। খুলনার সমাবেশ শেষ করে তিনি হেলিকপ্টারযোগে যশোরে পৌঁছাবেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোর জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত চলছে সাজ সাজ রব। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। নেতাকর্মীরা প্রচার মিছিল ও প্রস্তুতিমূলক সভার মাধ্যমে জনসভাকে সফল করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, যশোর উপশহর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে মূল জনসভা। জনসমাগমের কথা বিবেচনায় রেখে আশপাশের একাধিক স্থানেও নেতাকর্মীদের অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ মাঠসংলগ্ন ঈদগাহ ময়দান, বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউট স্কুল মাঠ এবং উপশহর পার্কে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের বক্তব্য শোনা ও সমাবেশ উপভোগের সুবিধার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভার কার্যক্রম শুরু হবে। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির প্রার্থীরা বক্তব্য দেবেন। বৃহত্তর কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যান সকালে খুলনায় একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে যশোরে এসে উপশহর কলেজ মাঠের জনসভায় যোগ দেবেন। আমরা প্রায় দুই লাখ মানুষের জনসমাগমের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। জনসভা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে জনসভাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিট সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “জনসভাটি শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য আমরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ জনসাধারণের নিরাপত্তা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
দলীয় নেতাদের মতে, নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই যশোর সফর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর সরাসরি জনসভায় অংশগ্রহণ করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যশোরবাসীর কাছেও এই জনসভা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভিওডি বাংলা/জা







