নারীদের অবমাননার বিরুদ্ধে রবিনের কঠোর হুঁশিয়ারি

নারীদের অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য জঘন্য মানসিকতার পরিচায়ক। নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি আপসহীন অবস্থানে থাকবে বলে তিনি জানান।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ঢাকা-৪ নির্বাচনী আসনের কদমতলী থানাধীন ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলা এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
কর্মজীবী নারীদের পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, আমাদের নারীরা কখনো প্রয়োজন ছাড়া বাইরে আসে না। নারীদের এভাবে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা জঘন্য মানসিকতার পরিচয়। এতে প্রমাণ হয় তাদের কাছে আমাদের মা-বোনেরা কতটুকু নিরাপদ তার পরিচয় বাহক।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন আমাদের মা-বোনেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পরও তেমনই চক্রান্ত চলছে। এ ধরনের মন্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্টদের অচিরেই ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন জনগণ তাদের প্রতিহত করে।
ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব খুব দ্রুতই মানুষ বুঝতে পারবে। এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম অঙ্গীকার। দেশনায়ক তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে যে অঙ্গীকার করেছেন, তা ইনশাল্লাহ পূরণ করা হবে। বিএনপি শুধু কথায় নয়, অতীতে বারবার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে—এবারও করবে।
তিনি বলেন, পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ঘিরে বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা নিরাপত্তা পাবে এবং স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। জীবনের তাগিদে নারীরা ঘরের বাইরে বের হলেও তাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন হয় না এবং তাদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে থাকে। অনেক সময় অর্থনৈতিক কারণে নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নারীরা পরিবারের প্রয়োজনে সুবিধামতো অর্থ ব্যয় করতে পারবেন এবং অর্থনৈতিক কারণে নির্যাতনের পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্যও বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রবিন বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ, শারীরিক সুস্থতা ও বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, কারিগরি শিক্ষার পরিসর বৃদ্ধি করে বেকারত্ব দূরীকরণ, দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো সময়োপযোগী এবং দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত ঢাকা-৪ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে রবিন বলেন, এলাকায় মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী প্রবণতা বেড়েছে। নিজ এলাকার সন্তান হিসেবে তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন ।
তিনি বলেন, যারা এসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের এখনই সতর্ক করা হচ্ছে। অন্যথায় অভিযান শুরু হলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদক, সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত বা এসবের প্রশ্রয়দানকারী সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকলে তাকেও সাবধান হয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে রবিন বলেন, এই মাটিতেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এলাকার প্রতি তিনি দায়বদ্ধ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সেই দায়বদ্ধতাকে দায়িত্বের পর্যায়ে নিতে চান বলে জানান তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং অন্যদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







