নির্বাচনে সন্ত্রাস হলে সমান জবাব দেওয়া হবে: শফিকুর রহমান

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ সন্ত্রাস চালাতে চাইলে তার বিরুদ্ধে সমান জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে যেকোনো প্রতিরোধের আগে অবশ্যই প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সন্ত্রাস, হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিরোধ করতে হবে। তবে কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে নেওয়া যাবে না। আগে প্রশাসনকে জানাতে হবে। প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালন না করে বা নীরব থাকে, তাহলে জনগণের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল ইসলামের নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একজন জামায়াত নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের কাছে এ ধরনের কাজ নতুন নয় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজের দলের দুইজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষকেও হত্যা করেছে। যে রাজনীতি মানুষের নিরাপত্তার কথা বলে অথচ খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে-সে রাজনীতি কেমন রাজনীতি, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ধরনের রাজনীতি দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অবমাননার বিষয়েও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। নারীদের ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মায়েদের অসম্মান করা হচ্ছে। যারা এসব কাজ করছে, তারাও কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান-নিজেদের মা, স্ত্রী ও বোনকে সম্মান করতে শিখুন। যে ব্যক্তি নিজের পরিবারকে সম্মান করতে জানে না, সে কখনোই দেশের কোটি কোটি মাকে সম্মান করতে পারে না। যারা নারীদের অসম্মান করে, তারা মানবিক গুণাবলি হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের হ্যাক হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তার এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এরপর একটি রাজনৈতিক দল সেটিকে ইস্যু বানিয়ে মিছিল শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারাই এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় কারা এসব অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত। একেবারে ইতর মানসিকতা না থাকলে এমন কাজ কেউ করতে পারে না। সাময়িকভাবে যদি কোনো মা এই অপতথ্যের কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলেও জানান জামায়াত আমির।
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব যুবসমাজের হাতে তুলে দেওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী যুবকদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায়। বৈষম্য, দুর্নীতি, অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশ একদিন দাঁড়িয়ে যাবে। সেদিন যুবকদের ‘বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে’ বসানো হবে আর বর্তমান নেতৃত্ব প্যাসেঞ্জার সিটে বসে সহযোগকের ভূমিকা পালন করবে।
উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে নিজের দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের কোনো জেলা সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত থাকবে না। পাশাপাশি সারা দেশকে আধুনিক ও কার্যকর রেলওয়ে যোগাযোগের আওতায় আনা হবে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







