• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নির্বাচনি প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারের সামগ্রিক পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজীকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর তাগিদ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রফতানি বিশেষ করে তৈরি পোশাক ইইউ বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে পারে, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি জরুরি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০টির বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি আলোচনায় এগোতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, “জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এতে রফতানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।”

ইউরোচেম চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই এখনই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।

তার মতে, এমন চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রফতানি আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এই ধরনের চুক্তির সুফল পাচ্ছে, যা তাদের ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

নুরিয়া লোপেজ বলেন, “আমরা এফটি’র পক্ষে কাজ করছি। ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।”

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের কাঠামো বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না।

তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।

মাইকেল মিলার বলেন, ইইউ’র কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে এসে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে আগ্রহী হয় সে জন্য স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় দেশের বড় শক্তি।

তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে আস্থার প্রতীক।

তিনি বলেন, “নির্বাচনি প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক।”

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিটিভিকে ১৮ কোটি মানুষের চ্যানেল করতে হবে
রিজওয়ানা হাসান বিটিভিকে ১৮ কোটি মানুষের চ্যানেল করতে হবে
নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা: নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে
৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ
৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ