নির্বাচন ঘিরে দেড় মাসে ২৭৪ সহিংসতা, নিহত ৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার চিত্র নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত দেড় মাসে সারা দেশে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২৭৪টি, যার মধ্যে প্রাণহানি হয়েছে পাঁচজনের।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোট ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন ঘিরে ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। প্রার্থীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৫টি এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা পাঁচটি। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা পাওয়া গেছে তিনটি।
এ ছাড়া হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ৯টি, প্রচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২৯টি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২০টি। পাশাপাশি অবরোধ ও বিক্ষোভ হয়েছে ১৭টি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার একটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যান্য সহিংস ঘটনার সংখ্যা ৭০টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এতে আগের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়।
প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাসে ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত মোট ৫৩৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন ৪৬০ জন এবং নিহত হন ছয়জন। ওই সময় ভাঙচুরের ঘটনা ছিল ১০২টি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১১৮টি এবং ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণসহ গুলির ঘটনা ঘটে ৩০টি।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২২ দিনে ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ২ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত—৪১৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ৭৮০ জন এবং প্রাণ হারান ২২ জন। সে সময় ভাঙচুরের ঘটনা ছিল ২৩৪টি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১৫৫টি এবং ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে ১৪৩টি।
এর আগে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ১২ দিনে ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত—সহিংসতার ঘটনা ঘটে ৫৩০টি। ওইসব ঘটনায় আহত হন ৩১৫ জন এবং নিহত হন ১১৫ জন। তবে সে সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের পৃথক কোনো পরিসংখ্যান জানায়নি প্রেস উইং।
ভিওডি বাংলা/এমএস







