• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি খতম হয়ে যাবে: ডা. তাহের

কুমিল্লা প্রতিনিধি    ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৪ পি.এম.
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের

নির্বাচনের মাঠে কড়া রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের সময় এসেছে।

তিনি বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকারই মনে করত না যে ভারতের তোয়াজ না করে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় না করেও পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে চলা যায়। ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে ইনশাআল্লাহ দেশে গুণগত পরিবর্তন আসবে। আমরা ভারতের কাছে মাথা নত করব না; দুর্নীতি হতে দেব না এবং দেশের স্বাধীনতাও বিক্রি হতে দেব না।’

সোমবার বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর কেন্দ্রে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. তাহের আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইসলামী সমমনা দল, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দল এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সমন্বয়েই ‘১১ দলীয় জোট’ গঠিত হয়েছে। এই জোট ক্ষমতায় এলে প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে দুর্নীতি বন্ধ করা। দেশে কোনো চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব চলতে দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কেউ অন্যায় করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটি কেবল সংসদ সদস্য হওয়ার নির্বাচন নয়, এটি বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। গত ৫৪ বছরে আমরা বিভিন্ন সরকার দেখেছি। মূলত তিনটি প্রধান দল রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে যাদের নাম ভিন্ন হলেও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল প্রায় একই। তাদের সবার আমলেই দুর্নীতি, খুন, রাহাজানি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি হয়েছে। লুটপাট ও সম্পদ চুরির ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে অদ্ভুত মিল লক্ষ করা গেছে। তবে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে, নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা যদি নতুন কোনো শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে পারি, তবে দীর্ঘ ৫৪ বছরের দুর্নীতির ধারা আমূল বদলে যাবে।’

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মানুষের মন জয় করে বিজয়ী হতে চাই। একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য আমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি। আমরা চাই বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হতে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নির্বাচিত হলে এলাকায় কোনো কাঁচা রাস্তা রাখা হবে না। ইতোমধ্যে চৌদ্দগ্রামে ১৮০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ পাস হয়েছে। আমরা এখন একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের অপেক্ষায় আছি।’

গুণবতী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মো. ইউসুফ মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আইয়ুব আলী ফরায়েজী, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মেশকাত উদ্দিন সেলিম ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান।

এছাড়া উপজেলা এনসিপি নেতা খালেদ রায়হান, কুমিল্লা মহানগর ১৪নং ওয়ার্ড সভাপতি রফিকুল ইসলাম মিয়াজীসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। সমাবেশে জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জামায়াতের কথা ও কাজে মিল নেই: রেজাউল করীম
জামায়াতের কথা ও কাজে মিল নেই: রেজাউল করীম
১৩ তারিখ থেকে চাঁদাবাজির দিন শেষ: শফিকুর রহমান
১৩ তারিখ থেকে চাঁদাবাজির দিন শেষ: শফিকুর রহমান
জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠনের সুযোগ এসেছে
আলী রীয়াজ জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠনের সুযোগ এসেছে