৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মিয়ানমার

মিয়ানমারে ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪ মিনিটে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও। হঠাৎ কেঁপে ওঠায় অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইউরোপের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের রাজধানী আকিয়াব বা সিতওয়ে শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্রস্থল, যার ফলে বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়।
ইএমএসসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ৭১ ঘণ্টার মধ্যে এটি মিয়ানমারে সংঘটিত তৃতীয় ভূমিকম্প। তবে সর্বশেষ এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মিয়ানমারে অতীতেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। সে সময় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রাণ হারান সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ, আহত হন কয়েক হাজার। ওই দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আবাসিক ভবন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান ভূমিকম্পগুলোর ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।
ভিওডি বাংলা/জা







