• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

লিবিয়ায় গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গুলিতে নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২১ এ.এম.
লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি-ফাইল ছবি

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তার মৃত্যুর স্থান ও ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি সশস্ত্র কমান্ডো দল পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে তার বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। হামলাকারীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানান তিনি।

এদিকে লিবিয়ান নিউজ এজেন্সির বরাতে সাইফ আল ইসলামের রাজনৈতিক দলের প্রধানও মঙ্গলবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত এখনও পরিষ্কার নয় এবং তদন্ত চলছে।

তবে সাইফ আল ইসলামের মৃত্যুর স্থান নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন তার বোন। লিবিয়ান টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জিনতান শহরে নয়, বরং আলজেরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় সাইফ আল ইসলাম নিহত হয়েছেন। তার দাবি, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভ্রমণের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রামাণ্য তথ্য বা নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে একসময় তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। গাদ্দাফি শাসনামলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় অনানুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। তার নেতৃত্বেই লিবিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে এবং দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ সুগম হয়।

২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর দেশটিতে শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা। ওই বছরের পর সাইফ আল ইসলাম প্রায় ছয় বছর ধরে জিনতান শহরে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক ছিলেন। বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে বিচার চেয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

পরবর্তীতে পূর্বাঞ্চলভিত্তিক কর্তৃপক্ষের জারি করা সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চললেও তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই আসতেন।

গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকে লিবিয়া কার্যত বিভক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাইফ আল ইসলামের মৃত্যু লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইউক্রেনে ৪৫০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
ইউক্রেনে ৪৫০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৩ দিনে নিহত ২৫৫
বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৩ দিনে নিহত ২৫৫
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রয়োজন নেই: আমিরাত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রয়োজন নেই: আমিরাত