সরকার ২ লাখ ১০ হাজার টন সার কিনছে

সরকার চলতি অর্থবছরে মোট ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ডিএপি, ইউরিয়া এবং টিএসপি সার অন্তর্ভুক্ত আছে। সরকারের এই বড় ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সার কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
সরকার মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এই আমদানি করতে খরচ হবে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫১ মার্কিন ডলার।
এর পাশাপাশি, একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার। একই পরিমাণ আরেকটি টিএসপি সারও একই খরচে আমদানি করা হবে।
সৌদি আরবের মা’আদেন এবং বিএডিসির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সৌদি আরব থেকে এই সার আনার খরচ হবে ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬০ মার্কিন ডলার।
ইউরিয়া সার আমদানিতেও সরকার কার্যক্রম এগোচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়বে ৪১৮ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
স্থানীয় উৎস থেকেও সার কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটির খরচ দাঁড়াবে ১৫৩ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১৫ দশমিক ৮৭৫ মার্কিন ডলার।
এই ক্রয় কার্যক্রমের ফলে দেশের কৃষি খাতের সার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ডিএপি, ইউরিয়া ও টিএসপি সার আমদানির ফলে ধান, পাট ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, সার আমদানির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে সার সরবরাহে কোনও প্রকার ঘাটতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। এছাড়া, সার আমদানি চুক্তিগুলি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার এই প্রকল্প দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে সারের দাম স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এতে কৃষকরা সঠিক সময়ে সারের যোগান পাবেন, যা ফসলের গুণগতমান এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
সরকারি পরিকল্পনায়, এই ক্রয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সারের দাম ওঠাপড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারে সীমিত রাখার পাশাপাশি দেশের কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা সম্ভব হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







