নবম পে-স্কেল: এমপিও শিক্ষকদের বেতন বাড়ার ইঙ্গিত

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কি না তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী শঙ্কিত যে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলেও তাদের বেতন কি বৃদ্ধি পাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, তাদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নতুন পে-স্কেলের অনুযায়ী বৃদ্ধি পাবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি বেতন পাওয়া সত্ত্বেও এটি মূলত অনুদান হিসেবে পেয়ে থাকেন। তবে, তারা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান না।
শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, নবম পে-স্কেল অনুমোদিত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি পাবে। মূল বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখী ও উৎসব ভাতাও বৃদ্ধি পাবে। তবে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে তারা সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় কম সুবিধা পাবেন; সরকারি চাকরিজীবীরা ৪৫-৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা পান, যেখানে এমপিও শিক্ষক পাবেন মাত্র ১৫ শতাংশ।
চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বৈষম্য থাকবে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এতে কোনো অংশ পাবেন না। এছাড়া, সরকারি চাকরিজীবীদের টিফিন ভাতা ১,০০০ টাকা হবে, কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এটি নেই। বিনোদন ভাতা ও শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও বৈষম্য থাকবে। সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের উপর এক বছর পর পর বিনোদন ভাতা পান এবং দুই সন্তানের জন্য শিক্ষা ভাতা পাবেন। এমপিও শিক্ষকরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।
অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। তবে, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের বেতন বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ।
ভিওডি বাংলা/জা







