কুষ্টিয়া
খোকসায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আয়োজিত সালিশি বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে খোকসা উপজেলার মাসালিয়া বাজার এলাকায় বৈঠক চলাকালে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে তারা আহত হয়। গুরুতর আহত ৭ জন কুমারখালী ও খোকসা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহতরা হলেন, জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, নিজামউদ্দিন (৪৫) খাইরুল হাসান রিন্টু (৪০) তুহিন শেখ (৩০) রহমান শেখ, এরা সবাই একই ইউনিয়নের বিএনপির সমর্থক বলে জানা গেছে।
একই ঘটনায় খোকসা উপজেলা ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি শেখ সাইদুল ইসলাম সাঈদ (৩৩), মোঃ মাসুম বিল্লাহ-(২২) জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ইসলামী ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোঃ মাসুম বিল্লাহ (২২), জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড জামাতের সভাপতি ও ইউপি সদস্য এস এম আবু দাউদ আহত হয়ে কুমারখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত বিএনপি নেতা নিজামউদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকার এক বৃদ্ধ জামায়াতে ভোট দেবে না। এমন কথায় জামায়াতের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এই নিয়ে বুধবার সকালে সালিশী বৈঠকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে জামায়াতের লোকজন তাদের কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করেছে। আমাদের ৪ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে।
ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, মেয়েদের ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আমাদের তিন জন আহত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ওই এলাকায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আফজাল হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা ভোটের প্রচারণায় গেলে এক বৃদ্ধ ভোটার তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বুধবার সকালে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠক চলাকালে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিএনপির অভিযোগ, জামায়াত ও শিবির কর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত ১০ থেকে ১২ জন কর্মী আহত হন। আহতদের খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা অভিযোগ করেন, হামলায় চাইনিজ কুড়াল ও চাইনিজ স্টিক ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আফজাল হোসেন বলেন, ‘সালিশ বৈঠকে ভুল বোঝাবুঝির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে তার দলেরও দুইজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।’
অন্যদিকে কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, পরিকল্পিত ভাবে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে কিছু দুষ্কৃতকারীরা। আমি এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
খোকসা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভিওডি বাংলা/ মোশাররফ হোসেন/ আ







