দুই বছর পর পর শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের আশ্বাস: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতি দুই বছর পরপর শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য কমিশন কাজ করবে।
সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর হাতিরঝিলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে শুধু দ্রব্যমূল্য নয়, যাতায়াত ভাড়া, চিকিৎসাসহ নানা খাতে ব্যয় বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।
নারী শ্রমিকদের আবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি শুধু আবাসনের কথা নয়, নিরাপদ আবাসন ও নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। গভীর রাতে ও ভোরবেলায় কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় নারী শ্রমিকেরা নানা ধরনের হয়রানি ও অসম্মানের শিকার হন। এ কারণে তাদের আবাসন ও যাতায়াতের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান মজুরি কাঠামোর বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর মজুরি পুনর্নির্ধারণের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ বছর সময় লেগে যায়। বিএনপি এ প্রক্রিয়াকে দুই বছর অন্তর কার্যকর করার কথা ভাবছে।
বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী ভারতের কয়েকটি রাজ্যও এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, শিল্প লাভবান না হলে এবং শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে শুধু বেতন-ভাতা বা সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। চাকরি বাঁচাতে হলে শিল্প বাঁচাতে হবে। শিল্প টিকলে চাকরি টিকবে এবং দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে।
করাইল ও ভাষানটেক এলাকার বস্তিবাসীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব এলাকার বাসিন্দারা যে সমস্যার কথা বলেছেন, তা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, বস্তিবাসীদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৭ বছর দেশের বাইরে থেকেও তারেক রহমান জনগণের সমস্যা নিয়ে ভাবছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা দিয়েছেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দলের বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি কোনো কাজ করলে সমালোচনা করা হয়, অথচ একই কাজ অন্যরা করলে তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়—এই প্রবণতা সঠিক নয়।
দলের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে দেশকে উত্তরণে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
পরিবহন শ্রমিকদের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পরিবহন খাত দেশের লাইফলাইন। এই খাত রক্ষা করা না গেলে সব কিছু থেমে যাবে। তিনি জানান, পরিবহন শ্রমিকদের জন্য বীমাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা-১৭ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ড. জোবাইদা রহমান এবং ঢাকা–১৭ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ প্রমুখ।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এমএস







