ভারতের সংসদে তুলকালাম, মোদিকে ঘিরে ধরে হট্টগোল

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিরোধী দলের তীব্র হট্টগোল ও বিক্ষোভে ভাষণই দিতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ নিয়ে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও বিরোধীদের প্রতিবাদের কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে ধন্যবাদসূচক বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল, তা সংসদের অচলাবস্থার কারণে আর সম্ভব হয়নি। এদিন সকাল থেকেই লোকসভায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সাবেক সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েন বিরোধী সংসদ সদস্যরা।
দিনভর কয়েক দফা লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হতেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই বিরোধী দলের কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য ক্ষমতাসীন দলের জন্য নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়িয়ে চেয়ার আটকে দেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিক্ষোভে বিরোধী সংসদ সদস্য বর্ষা গায়কোয়াড় ও জ্যোতিমণিও অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘সঠিক কাজ করো’ লেখা একটি বড় ব্যানার প্রদর্শন করেন। মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলীয় আটজন সংসদ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা সন্ধ্যা রায় অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। পরে কয়েকজন মন্ত্রী তাদের আসন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে নারী সংসদ সদস্যরা অবরোধ তুলে নেন।
ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি বলেন, নারী সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আক্রমণের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল করেছেন। তাঁর ভাষায়, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ভীতিকর এবং এতে কংগ্রেসের হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নারী সংসদ সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর আসনের চারপাশে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং কিরেন রিজিজুর দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। অব্যাহত হট্টগোলের মধ্যেই আবারও অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত লোকসভায় ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ও গৃহীত হয়নি। অধিবেশন আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি থাকায় এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
ভিওডি বাংলা/এমএস







