• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

৬ লাশ পোড়ানো মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৫ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যা এবং পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রায় ঘোষণা করা হবে। সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি তৃতীয় রায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ১৬ আসামির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

এর আগে, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিখণ্ডন উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

অপরদিকে আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম এবং আবুল হাসান। মামলার আগের পর্যায়ে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান।

মামলার ১৬ আসামির মধ্যে আটজন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল।

গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সে সময় আদালতে উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। তার স্বীকারোক্তি মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে বিস্তৃত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার অন্যান্য তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দু’টি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়।

মামলার পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ প্রাণ হারান। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর তাদের লাশ একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। আরও অভিযোগ আছে, ওই সময় একজন ব্যক্তি জীবিত ছিলেন এবং তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে তাকেও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া ঘটনার আগের দিন একই এলাকায় আরও একজন ব্যক্তি নিহত হন।

এই নৃশংস ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে। অবশেষে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়।

আজ ঘোষিতব্য এই রায়কে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নিহতদের পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং গোটা দেশ।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিএনপির ৩ প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই
বিএনপির ৩ প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই
কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
মানবতাবিরোধী অপরাধ: কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
চট্টগ্রাম-৪-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীদের ভোটে বাধা নেই
চট্টগ্রাম-৪-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীদের ভোটে বাধা নেই