• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

যে সময়ে ঘুমালে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল    ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৮ এ.এম.
যারা দেরিতে ঘুমান তাদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি -ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, রাতজাগা বা ‘নাইট আউল’দের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা তাদের তুলনায় বেশি, যারা ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত জীবনযাপন করেন।

গবেষণায় প্রায় ৩ লাখ ২৩ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ৩৯ থেকে ৭৪ বছর। প্রায় ১৪ বছর ধরে তাদের ঘুমের ধরন, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষকরা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ‘লাইফস এসেনশিয়াল এইট’ সূচক ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের হৃদ্‌স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করেন। এই সূচক অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান, ঘুমের মান, শরীরের ওজন, রক্তে চর্বি, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ-এই আটটি বিষয় বিবেচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের রাতজাগা মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং যাদের হৃদ্‌স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকির পেছনে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, কম শারীরিক পরিশ্রম, অতিরিক্ত ওজন এবং অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করা।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে পরিসংখ্যানভিত্তিক ব্যাখ্যা দেন। তাদের মতে, শুধু দেরিতে ঘুমানোই সরাসরি হৃদরোগের কারণ নয়, বরং এটি একটি প্রভাবক। রাতের ঘুমে হৃদ্‌স্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমে আসে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

গবেষকরা আরও পরামর্শ দেন, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করছেন যে, রাতজাগা অভ্যাসজনিত ঝুঁকি সুস্থ জীবনধারার মাধ্যমে অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সুতরাং, যারা রাতজাগা অভ্যাসে অভ্যস্ত, তাদের উচিত ঘুমের সময় ঠিক রাখা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরিহার করা। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য এই পদক্ষেপগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী হতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অফিসে কাজের ফাঁকে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস
অফিসে কাজের ফাঁকে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস
ঝলমলে ও সুস্থ চুলের জন্য ৫টি অপরিহার্য পুষ্টি
ঝলমলে ও সুস্থ চুলের জন্য ৫টি অপরিহার্য পুষ্টি
মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
শিশুদের স্ক্রিন টাইম: মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?