ঢাবি শিক্ষিকার মন্তব্য:
জামায়াতের ইশতেহার প্রগতিশীল-উদ্ভাবনী, নারীরাও ইনক্লুসিভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) জামায়াতের নতুন নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রগতিশীল, উদ্ভাবনী এবং তারুণ্যনির্ভর হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।
মোনামী বলেন, “জামায়াত, শিবির বা এনসিপিতে যারা আছেন, সবাই শিক্ষিত; একেকজন পিএইচডি করছে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ডাক্তার। তারা প্রযুক্তি ভিত্তিক ইশতেহার দিয়েছে। এটা তাদের জন্য কোনো অবিশ্বাস্য বিষয় নয়। ইচ্ছা, জনশক্তি এবং ক্ষমতা থাকলে কেন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের পুরো ইশতেহার আমার কাছে খুবই প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী লেগেছে। তারা বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে। যদি এগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, দেশের উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারবে।”
মোনামী নারীর বিষয়ে ইশতেহারের বিষয়টিও বিশেষভাবে নজরে এনেছেন। তিনি বলেন, “নারীর অধিকার নিয়ে আমি আগে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখেছি, তাই প্রথমে একটু উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি একজন অ্যাম্বিশিয়াস নারী। তাছাড়া এনসিপির ইশতেহারে অংশ নিয়েছি, এবং এখানে এসেছি দেখতে যে, জামায়াত সরকারের অধীনে নারীদের জন্য তারা কী ভাবছে।”
তিনি যোগ করেন, “যখন দেখলাম তারা যে পলিসিগুলো দিয়েছে, তা অত্যন্ত চিন্তাশীল এবং ইনক্লুসিভ। এবার তারা হিজড়া কমিউনিটির জন্যও একটি আলাদা নীতি রেখেছে। এটা আমার কাছে অবাক হওয়ার মতো বিষয়।”
ঢাবি শিক্ষিকা বলেন, “অনেকেই জামায়াতকে কনজারভেটিভ মনে করেন, কিন্তু এবার তারা সেখান থেকে সরে এসেছে। নারীদের জন্য যে নীতি প্রকাশ করেছেন, তা সত্যিই সুন্দর এবং সমসাময়িক চাহিদা অনুযায়ী।”
মোনামী আরও বলেন, “ইশতেহার পড়ে আমারও কিছু নতুন আইডিয়া এসেছে। জামায়াতের আমিরও বলেছেন, ইশতেহার সম্পর্কে কেউ সাজেশন বা রিকমেন্ডেশন দিতে পারেন। হয়তো পরে কিছু সংশোধনও আসতে পারে। আমি কিছু আইডিয়া দেব, যা দেশ গঠনে সহায়ক হতে পারে। এতদিন কোনো নির্বাচনি অনুষ্ঠানে যাইনি, কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে, যদি তারা সচেষ্ট হন এবং ইশতেহারের প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন, দেশের জন্য তা ভালো ফল দিতে পারবে।”
মোনামী বলেন, “সবমিলিয়ে জামায়াত এবার ইনক্লুসিভ নীতিতে বিশ্বাসী, প্রযুক্তিনির্ভর ও নারীর অধিকারকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করছে।”
ভিওডি বাংলা/জা







