• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ধর্মের নামে ভণ্ডামি মানুষ মেনে নেয় না: রুহুল কবির রিজভী

   ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৪ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

জামায়াতের আমিরের আচরনের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শীতল পাটির বদলে কেউ যদি তাকে কাফনের কাপড় উপহার দেয়, তিনি কি কবরে গিয়ে তা পরীক্ষা করবেন?

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ধূপখোলা মাঠে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি'র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রকাশ্যে এমন নাটক করা মানুষ গ্রহণ করে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করা হলেও মানুষ সচেতন এবং ভণ্ডামি সহজে মেনে নেয় না।

তিনি বলেন, বর্তমানে জামায়াত একটি ‘বট বাহিনী’ গড়ে তুলে বিএনপি, দলের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা ও অশ্লীল ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে  তবে সত্যকে কখনো চাপা দেওয়া যায় না।

ধর্মের নামে রাজনীতির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ইসলাম অঙ্গীকার রক্ষার ধর্ম, ইনসাফের ধর্ম। ভণ্ডামি করে ইসলামের কথা বললে মানুষ তা গ্রহণ করে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, যাঁর বীরত্বগাথা  বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকায় প্রচারিত হয়েছিল। কম বয়সেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গেরিলা যুদ্ধে লড়াই করেন। তাঁর সেই ভূমিকার বর্ণনা বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধার লেখা বইয়েও পাওয়া যায়।

রিজভী বলেন, অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের দাবি করেন, কিন্তু কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন—এই প্রশ্ন ওঠে। সাদেক হোসেন খোকাকে এ প্রশ্ন করতে হয় না। সীমান্তে যুদ্ধ করা, দেশের ভেতরে ঢুকে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন-মরণ লড়াই করা যে কজন খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাঁদের অন্যতম সাদেক হোসেন খোকা।

তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকার সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন আমাদেরই সন্তান, আমার ভাতিজা। তাঁর বাবা যখন প্রথম নির্বাচন করেন, তখন ছাত্রনেতা হিসেবে আমি নিজে ও অন্যান্য ছাত্রনেতারা এলাকায় সভা-সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছিলাম।

রিজভী বলেন, ইশরাক হোসেন স্বৈরাচার ও শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। শেখ হাসিনার শাসন ছিল ভয়ংকর ফ্যাসিবাদী শাসন, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হতো।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, সেই শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নিজের কর্মীকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন। একটি এলাকার নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন। এলাকার উন্নয়ন, মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে প্রতিদিন নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকাই একজন নেতার পরিচয়—আর সেই যোগ্যতা ইশরাক হোসেনের রয়েছে।

রিজভী বলেন, আন্দোলন চলাকালে বহুবার মিছিলের ওপর হামলা হয়েছে, নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন, কেউ অঙ্গহানি ঘটিয়েছেন, কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এসবের মধ্যেও ইশরাক হোসেন অদম্য মনোবল নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মধ্যে কোনো ভণ্ডামি বা প্রতারণা নেই।

তিনি বলেন, এই এলাকা ঐতিহ্যগতভাবেই ধানের শীষের এলাকা। একসময় সূত্রাপুর–কোতোয়ালি নামে পরিচিত এই অঞ্চলে সাদেক হোসেন খোকা শেখ হাসিনাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি ঢাকায় যে একটি মাত্র আসনে জয় পেয়েছিল, সেটিও ছিল সাদেক হোসেন খোকার।

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে পতাকা বহন করছেন, তা শান্তি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পতাকা। সেই পতাকা বহন করছেন বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, চালের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রতারণা করা হয়েছে, কর্মসংস্থানের কথা বলে বেকারত্ব বাড়ানো হয়েছে, কৃষকদের বিনামূল্যে সারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় জনগণের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।

সামনের নির্বাচনে ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি আবেগ। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নির্বাচিত হলে তিনি জনগণের কাছের মানুষ হয়েই থাকবেন। জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকা ৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টুর সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর, বিএনপির সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহবায়ক সুমন ভুইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র যুগ্ন আহবায়ক মকবুল হোসেন টিপু, আব্দুস সাত্তার, জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন,  স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন তুহিন, সদস্য সচিব মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল কাদির, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহবায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব লিয়াকত আলী,  বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুক্তো প্রমূখ।


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভোটারদের হাতেই বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ
হাবিবুর রশিদ ভোটারদের হাতেই বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ
ঢাকার ভোট কখনো কেনা যায় না, ১২ তারিখ প্রমাণ হবে
আবদুস সালাম ঢাকার ভোট কখনো কেনা যায় না, ১২ তারিখ প্রমাণ হবে
জনবান্ধব সরকারের জন্য বিএনপিকে পছন্দ করছে মানুষ: রবিউল
জনবান্ধব সরকারের জন্য বিএনপিকে পছন্দ করছে মানুষ: রবিউল