• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন দাবির প্রমাণ মেলেনি: পর্যবেক্ষক

   ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

চীনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর মার্কিন দাবিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা প্রমাণিত বলে স্বীকার করেননি। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বছরের শুরুতে এমন অভিযোগ করেছিলেন, তবে তার কোনো সমর্থক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে গত শুক্রবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট (আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি) থমাস ডি ন্যানো দাবি করেন, চীন ২০২০ সালে গোপনভাবে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে এবং তা আড়াল করার চেষ্টা করেছে। এই অভিযোগ এসেছে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ স্টার্ট পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর।

ডি ন্যানো আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানে চীন পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালিয়েছে এবং শত শত টন শক্তির নির্দিষ্ট মাত্রার পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনী পরীক্ষাগুলো গোপন রাখার চেষ্টা করেছে, কারণ তারা জানত এগুলো পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।” তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালের ২২ জুন একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হয়।

নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ডি ন্যানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উল্লেখ করেছেন যে, নতুন ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, “২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির সীমাবদ্ধতা ২০২৬ সালের বাস্তবতায় কার্যকর নয়, যখন একটি দেশ দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার সম্প্রসারণ করছে এবং আরেকটি দেশ চুক্তির বাইরে পারমাণবিক ব্যবস্থা উন্নয়ন করছে।”

তবে কমপ্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার-টেস্ট-ব্যান ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিটিবিটি) এই অভিযোগ নাকচ করেছে। সংস্থাটির নির্বাহী সচিব রবার্ট ফ্লয়েড এক বিবৃতিতে জানান, “আমাদের বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় অভিযোগকৃত সময়ের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কোনো বৈশিষ্ট্যযুক্ত ঘটনা শনাক্ত হয়নি। বিস্তারিত পুনঃবিশ্লেষণের পরও এই মূল্যায়ন অপরিবর্তিত।”

চীনের পারমাণবিক বিষয়ক রাষ্ট্রদূত শেন জিয়ান সরাসরি অভিযোগের উত্তর না দিয়ে বলেন, “চীন সবসময় পারমাণবিক ইস্যুতে দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকা পালন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। আমরা এই মিথ্যা বর্ণনার তীব্র বিরোধিতা করছি এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।”

পরবর্তীতে শেন জিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে উল্লেখ করেন, “চীন সবসময় পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি সম্মান করেছে।” কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগটি নতুন এবং উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই কমপ্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটিতে (সিটিবিটি) স্বাক্ষর করেছেন, তবে তা এখনও অনুমোদন করেননি। অন্যদিকে রাশিয়া চুক্তিটি স্বাক্ষর ও অনুমোদন করলেও ২০২৩ সালে অনুমোদন প্রত্যাহার করে নেয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু
নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
সৌদিতে প্রবাসীরাও এবার মদ কিনতে পারবেন
সৌদিতে প্রবাসীরাও এবার মদ কিনতে পারবেন