চট্টগ্রাম বন্দর কাল থেকে লাগাতার ধর্মঘট

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার সরকারি ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আগামীকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন।
তিনি বলেন, এই ধর্মঘট চলাকালে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটারে লাইটারিং) সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরে কার্যক্রম চালু থাকলেও এবারের আন্দোলনে সেটিও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনসিটি ইজারা ইস্যুর পাশাপাশি বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে চেয়ারম্যান পদ থেকে প্রত্যাহার করা, বিগত আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করা এবং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।
সংগঠনটির সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, “বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। সরকারের উচিত দেশের শ্রমিক ও বন্দরের স্বার্থ রক্ষা করা।”
অন্যদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে এর আগে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “নৌ-উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আমাদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ায় আমরা শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আন্দোলনের আওতা বাড়িয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি।”
সংবাদ সম্মেলনে ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুণ, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, কার্যকরী সভাপতি আবুল কাসেম, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ক ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, মো. হারুন, উইন্সম্যান সমিতির নেতা ইমাম হোসেন খোকন, শরীফ হোসেন ভুট্টোসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটের ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ না নিলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা।
ভিওডি বাংলা/জা







