গত ৩০ বছর ধরে তারা জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করছে: নাহিদ ইসলাম

দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল এগিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের খেলার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাড্ডার মানুষ ঢাকার এত কাছে বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। এলাকার ভেতরের দিকে গেলে অনেক সময় মনে হয় এটি ঢাকা নয়, বরং কোনো মফস্বল এলাকা। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই বাড্ডা-রামপুরা ছিল আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধে ফ্যাসিস্টরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ বছরের পর বছর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে। জুলাইয়ে যখন সুযোগ এসেছে, তখন তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ঢাকা-১১ আসনের বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, বহু মানুষ আহত হয়েছে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই আসনের মানুষ আশ্রয় দিয়েছিল উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জীবনের ২৮ বছর এই এলাকার মানুষ আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন সেই ঋণ শোধ করার সময় এসেছে। আমাকে সুযোগ দিলে বাকি জীবন আপনাদের এই ঋণ পরিশোধ করতে চাই।’
এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘এই রাজনৈতিক সমস্যার মূল জায়গা হলো ভূমি। শত শত মানুষের জমি, বিপুল পরিমাণ খাস জমি ও জলাশয় দখল করে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এতে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। যারা রাজনীতির মাঠে ছিল, তারাই ভূমিদস্যু হিসেবে কাজ করেছে অথবা ভূমিদস্যুদের সহযোগিতা করেছে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে যারা প্রধান দুই দল হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের স্থানীয় নেতারাই গত ৩০ বছর ধরে ভাগাভাগি করে এই ভূমি দখল করেছে। তারা রাজনীতিতে পরস্পরের বিরোধিতা দেখালেও ব্যবসায়িক স্বার্থে সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একজন গত ১৫ বছর বিদেশে ছিলেন। কিন্তু এখানকার ব্যবসার ভাগ, রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নামে যে ভূমি দখল হয়েছে, তার অংশ তিনি মালয়েশিয়া থেকেই পেতেন। ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফিরেছেন, আর যিনি এখানে দখল ও চাঁদাবাজি করতেন তিনি তার জায়গায় চলে গেছেন। মালয়েশিয়া থেকে তার প্রতিনিধি এসে অফিস ও গাড়ি দখল করেছে। এভাবে তারা হাতবদল করে জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করে গেছে।’
ঢাকা-১১ আসন থেকে ভূমিদস্যুদের চিরতরে উচ্ছেদের অঙ্গীকার করে শাপলা কলির প্রার্থী বলেন, ‘এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা হবে। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। যারা ভূমি হারিয়েছে, তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হবে, না হলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।’
আরেকটি দল বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সেই পরিকল্পনাকে ১২ ফেব্রুয়ারি পরাজিত করতে হবে। সেদিন দেশকে দখলদারমুক্ত, আধিপত্যমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হয়ে যাবে।’
ভিওডি বাংলা/এমএস







