• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চট্টগ্রাম বন্দর ফের সচল, ধর্মঘট স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৯ এ.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

দীর্ঘ অচলাবস্থার পর অবশেষে এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হলো চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সন্তোষজনক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা মো. হুমায়ূন কবীর ও মো. ইব্রাহীম খোকন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বর্তমান সরকারের মেয়াদে এনসিটি কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ বা চুক্তিভিত্তিক হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হয়েছে। এই আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খালাস নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক শর্ত ও সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত এখনো উদ্বেগজনক। এর মধ্যে রয়েছে-পাঁচজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা, ১৫ জন কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন বন্দরে বদলি, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ জন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত। এসব বিষয়ের দ্রুত সমাধান না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার আন্দোলনে গেলে বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক নেতাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেন। ওইদিন বিকেলে আলোচনার অগ্রগতির কথা জানিয়ে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

তবে একই দিনে বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত ১৫ শ্রমিক নেতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করে। পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবিতে পুনরায় রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ূন কবীর।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকেই বন্দরের বিভিন্ন জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো ও বহির্নোঙরসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ঘোষণায় এক সপ্তাহের জন্য ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা, ইসির নির্দেশনা জারি
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা, ইসির নির্দেশনা জারি
৪৪তম বিসিএসের ২৪৪ জন প্রশাসন ক্যাডার পদায়ন
৪৪তম বিসিএসের ২৪৪ জন প্রশাসন ক্যাডার পদায়ন
রোজায় সরকারি অফিস চলবে যেভাবে, যা জানা গেল
রোজায় সরকারি অফিস চলবে যেভাবে, যা জানা গেল