রণবীর সিং: পর্দার জ্বলন্ত তারকা, জীবনের নীরব শান্তির খোঁজে

বলিউডের বর্তমান সময়কে নতুন রঙে রাঙাচ্ছেন একমাত্র নাম— রণবীর সিং। পর্দায় তার ঝলমলে উপস্থিতি, সংলাপে জ্বালাময়ী আগুন এবং বক্স অফিসে তান্ডব— সব মিলিয়ে প্রমাণ করে, এই সময়টিই রণবীরের জন্য ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়।
গত ৫ ডিসেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত তার সাম্প্রতিক সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করে দেখিয়েছে যে, রণবীর শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং তিনি নিজেই একটি ব্র্যান্ড। অক্ষয় খান্না, আর মাধবন, অর্জুন রামপাল ও সঞ্জয় দত্তের মতো প্রতিশ্রুতিশীল অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রণবীরকে আরও পরিণত ও ভয়ংকর রূপে দেখা গেছে।
সাফল্যের এই উল্লাস থামতেই দর্শক-অনুরাগীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েল নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়ার কথা এই দ্বিতীয় কিস্তির, যা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ ও প্রত্যাশা তুঙ্গে।
তবে ব্যস্ততা ও খ্যাতির মধ্যেও মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রণবীর নিজেকে উন্মুক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “জীবনের গতি যখন অনেক বেড়ে যায় এবং সব কিছু পাগলাটে মনে হয়, তখন আমি একটু স্থিরতা ও নীরবতা খুঁজে পাই।”
রণবীর বলেন, দুবাই ও আবুধাবি তার প্রিয় স্থান। মানসিক চাপের সময় বা নিজেকে সময় দেওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি সেখানে যান। আল আইন ওসিসে হাঁটাহাঁটি করা কিংবা সাদিয়াত বিচ ক্লাবের পুলের ধারে বিশ্রাম নেওয়া তাকে নতুন শক্তি যোগায়। পর্দায় চঞ্চল ও এনার্জেটিক হিসেবে পরিচিত হলেও ভ্রমণ তার ভেতরের শান্ত ও কৌতূহলী দিকটিকে জাগিয়ে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার কারণে রণবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ ও তাদের সংস্কৃতিকে ঘনিষ্ঠভাবে জানার আগ্রহী। তার মতে, ভ্রমণ মানুষকে বিনয়ী করে এবং শেখায় এই পৃথিবী কত বিশাল, আর আমাদের ব্যক্তিগত জগত কত ছোট।
পরিকল্পনা আর মুহূর্তের আবেগ— দুটোই রণবীর সিংয়ের জীবনের মূল রোমাঞ্চ। ভ্রমণের সময় তিনি প্রায়শই আগেভাগে সব কিছু ঠিক করে নেন, তবে কখনও কখনও হঠাৎ মনের ডাকেই গন্তব্য পরিবর্তন হয়ে যায়।
ঠিক যেমন তার সিনেমার চরিত্রগুলো— পরিকল্পিত হলেও চমক দিতে জানে, প্রয়োজনে হঠাৎ সিদ্ধান্তেই দর্শককে মুগ্ধ করে। তাই পর্দার বাইরে যেমন প্রাণবন্ত, পর্দাতেও তেমনি অপ্রত্যাশিত ও অনন্য রণবীর সিং।
ভিওডি বাংলা/এমএস







