• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রয়টার্সের প্রতিবেদন

বিএনপি-জামায়াত জোটের তীব্র লড়াই, ভোটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব জেনজিদের

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৭ পি.এম.
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। যেখানে আগের নির্বাচনে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল প্রায় অনুপস্থিত থাকতো বা সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের কারণে কার্যত নির্বাসিত থাকতেন, এবার পরিস্থিতি উল্টো। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ ভোটাররা মনে করছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচন হবে দেশের প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ভোট।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “তারা সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসী।” এদিকে ইসলামপন্থী জামাত জোটও শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। নতুন জেনারেশন জেডের একটি দল (এনসিপি) জামাতের সঙ্গে জোট করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, ভোটের ফলাফল দেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। শেখ হাসিনার ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর মাসব্যাপী অস্থিরতা এবং শিল্প, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস খাতের বিঘ্ন লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, “মতামত জরিপ অনুযায়ী বিএনপির এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভোটারের একাংশ এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। জেনারেশন জেডের ভোট প্রভাবশালী।”

দেশব্যাপী রাস্তার পাশে এবং খুঁটিতে বিএনপির ধানের শীষ ও জামাতের দাঁড়িপাল্লার পোস্টার দেখা যাচ্ছে। পার্টির অফিসগুলোতে বাজছে নির্বাচনী গান। এটি আগের নির্বাচনের সঙ্গে বৈপরীত্যপূর্ণ, যখন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক সর্বত্র দেখা যেত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় কারণে নয়, জামাতের পরিচ্ছন্ন ও ধারাবাহিক রাজনৈতিক চিত্র ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হিসেবে কাজ করছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভোটাররা দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন, ধর্মীয় বা প্রতীকী বিষয়ের তুলনায়।

তরুণ ভোটাররা আশা করছেন, নতুন সরকার তাদের ভোট ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ রাকিব বলেন, “আগের সময়ে ভোট দেওয়া বা মত প্রকাশ করা কঠিন ছিল। আশা করি নতুন সরকার এই স্বাধীনতা বজায় রাখবে।”

আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকেও নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার প্রস্থানে ভারতের প্রভাব কমেছে, চীনের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপি ভারতের সঙ্গে আপেক্ষিকভাবে নমনীয় হতে পারে, তবে জামাত-নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, তারা কোনো দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

অর্থনৈতিক চাপও রয়েছে। ঘনবসতি ও দারিদ্র্যপূর্ণ বাংলাদেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং বিনিয়োগ হ্রাসের কারণে ২০২২ সালের পর বৃহৎ বিদেশি অর্থায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

রাজনীতি, অর্থনীতি, তরুণ ভোটারের প্রভাব এবং সরকারের স্বচ্ছতা— এই সব কারণে নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের পর স্থিতিশীল সরকার গঠন দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

ভিওডি বাংলা/এমএস   

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিদেশে যেতে আর জমি বিক্রি করতে হবে না
তারেক রহমান: বিদেশে যেতে আর জমি বিক্রি করতে হবে না
ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল
ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল
জুরাইনে তারেক রহমানের পথসভার প্রস্তুতি সম্পন্ন : তানভীর আহমেদ
জুরাইনে তারেক রহমানের পথসভার প্রস্তুতি সম্পন্ন : তানভীর আহমেদ