ইরান জানালো ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আপস নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা বা আপস হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, “ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের প্রতিরক্ষার বিষয়, তাই এটি নিয়ে কখনো আলোচনার টেবিলে আপস করা হবে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রতিশোধী পদক্ষেপ নেবে।”
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরাগচি জানান, ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠিত আলোচনাটি যদিও পরোক্ষ ছিল, তবু সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কৌশলগত সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভালো শুরু, তবে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ার জন্য এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।”
পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার রয়েছে। সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আশ্বস্ততার জায়গা তৈরি করতে আমরা চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়টি কখনো আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ এটি আমাদের প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতার, সৌদি আরব ও ওমানের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান সংশোধন করেছে। এখন তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা না করে শুধুমাত্র পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ফোকাস রাখতে সম্মত হয়েছে।
তবে আলোচনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। আলোচনার পরপরই ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী ১৪টি জাহাজ এবং কিছু প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবস্থান করছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, যা পুরো অঞ্চল এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে প্রভাবিত করবে।”
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, “ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে পারে।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







