মিলিয়ন ডলারের এক্স প্রতিযোগিতা ঘিরে বিতর্ক

ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স আবার বিতর্কের মুখে। সম্প্রতি চালু হওয়া লেখালেখির প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা ঘিরে উঠে বড় প্রশ্ন। যদিও প্রতিযোগিতা শুরুর সময়ই বলা হয়েছিল যে, প্রতিযোগিতার লেখায় রাজনীতি বা ধর্মীয় বিষয় লেখা যাবে না, বিজয়ীদের তালিকায় এমন লেখা দেখা যাচ্ছে যা নিয়মের সঙ্গে মিলছে না।
এক্স তাদের “আর্টিকেলস” ফিচার প্রচারের জন্য এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিল। প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কার কয়েক মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে এক ব্যবহারকারীকে। কিন্তু এই বিজয়ী ব্যবহারকারী @beaverd-এর পুরোনো পোস্টগুলো বিতর্ক উসকে দিয়েছে। জানা যায়, তিনি পূর্বে বর্ণবাদী ও চরমপন্থী মন্তব্য করেছেন, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী চিন্তাধারা প্রকাশ করেছেন এবং এমনকি হিটলারকে সমর্থনমূলক মন্তব্যও পোস্ট করেছিলেন।
বিজয়ী @beaverd-এর লেখা ছিল ডেলয়েট নামে একটি বড় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগভিত্তিক বিশ্লেষণ। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে তখন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয় কমানোর আলোচনাও চলছিল। ইলন মাস্ক লেখার ঘোষণা হওয়ার আগেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “উদ্বেগজনক,” আরেকটি পোস্টে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।
বিজয়ী তালিকায় শুধু প্রধান পুরস্কারই নয়, অন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখাগুলোর বিষয়বস্তুও নজর কেড়েছে। অনেক লেখায় ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট। সংস্কৃতি যুদ্ধ, অভিবাসন, বর্ণ সমস্যা-এসবই আলোচনার বিষয় ছিল।
একজন সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন এমন একটি লেখার জন্য, যেখানে বলা হয়েছে, “পশ্চিমা বিশ্ব দাসপ্রথা শেষ করেছে।” ইলন মাস্ক আগে প্রকাশ্যে এই লেখার প্রশংসা করেছিলেন। অন্য একজন পুরস্কার পেয়েছেন মিনেসোটার সোমালি পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তোলার জন্য, যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, তদন্তে বড় কোনো অনিয়ম ধরা পড়েনি।
৫ লাখ ডলারের রানারআপ পুরস্কারও গিয়েছে এমন একজন ব্যবহারকারীর কাছে, যিনি ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিশ্লেষণ করেছেন। এ ব্যবহারকারীর সঙ্গে ইলন মাস্কের একাধিক প্রকাশ্য অনলাইন যোগাযোগও রয়েছে। আরেকজন পুরস্কারজয়ী লেখক গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ ব্যাখ্যা করেছেন, যা আগে মাস্কও প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন।
সব লেখাই অবশ্য রাজনৈতিক ছিল না। কিছু লেখায় ছিল আবহাওয়া পরিবর্তন বা ব্যক্তিগত মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল। তবুও সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন—যখন নিয়মে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তখন এত রাজনৈতিক লেখা পুরস্কার পেতে পারে কীভাবে?
এই বিতর্কের মধ্যেই এক্স ইতিমধ্যে নতুন প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। সুপার বোল উপলক্ষে ভিডিও বিজ্ঞাপন তৈরি করে বিজয়ী হওয়ার জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এক্সের কনটেন্ট যাচাই ও নীতিমালা প্রয়োগ এখনো অস্পষ্ট। প্রশ্ন উঠেছে, ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত মতের সঙ্গে মিলে এমন কনটেন্ট কি বেশি সুবিধা পাচ্ছে?
প্রতিযোগিতা হয়তো শেষ হয়েছে, কিন্তু বিতর্কের অন্ত নেই। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জগত এখন এই প্রশ্ন নিয়ে উত্তপ্ত-নিয়মের প্রয়োগে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?
ভিওডি বাংলা/জা







