• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ইসিকে কঠোর ভূমিকার আহ্বান বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৭ পি.এম.
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কথা বলছেন নজরুল ইসলাম খান। ছবি: ভিওডি বাংলা

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে তাদের আইনানুগ দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, টকশোতে যাদের আমরা সৎ ও নীতিবান মানুষ হিসেবে দেখি, তাদের কেউ কেউ ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন—এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চ্যালেঞ্জিং। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, যারা নির্বাচনে অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, পত্রপত্রিকা, ট্র্যাডিশনাল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুজব ও ঘটনার কথা দেখা যাচ্ছে। কোথাও বলা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ নারীর বিশেষ পোশাক তৈরি করা হচ্ছে, কোথাও ভোটের কাগজ ছাপানো হচ্ছে, আবার কোথাও ব্যালটে সিল মারার সিল তৈরি ও এসবসহ লোকজন আটক হওয়ার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এসব বিষয় শুধু নির্বাচনের দিন দেখার বিষয় নয়; অধিকাংশ কাজ নির্বাচনের আগেই ঘটে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকার পরও কেন এসব নজরে আসছে না। সে বিষয়ে কমিশনকে আরও কঠোর দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, কিছু মানুষ নিজেদের অত্যন্ত ক্ষমতাবান মনে করে যাকে খুশি যেভাবে খুশি ভাষায় কথা বলছে। এটি শুধু নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, দেশের সাধারণ সংস্কৃতিরও পরিপন্থী। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার পরও এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া একটি খারাপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে, যা বন্ধ হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, আলোচনার মূল বিষয় ছিল—নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি অনুযায়ী সবাই যেন নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে এবং তা কঠোরভাবে মনিটরিং ও বাস্তবায়ন করা হয়। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি যেন এমন আচরণ না করেন, যাতে মনে হয় তারা কোনো বিশেষ দল বা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

বাজারে ও গণমাধ্যমে ছড়ানো প্রশাসনের পক্ষপাতের গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কে কোন দলের, কতজন ডিসি কোন দলের, এ ধরনের খবর বিএনপি বিশ্বাস করে না। অনেক সময় এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব হয়। তবে নির্বাচনের দিন যদি কারও আচরণে কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে পক্ষপাত ধরা পড়ে, তাহলে যেন তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এই দাবি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের পরিস্থিতির বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না, যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে হয়। যদিও এখনও একদিন সময় আছে, তবে পরিস্থিতির অবনতি হবে না বলেই তারা আশাবাদী। কারণ যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর মেহেরবানিতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। ইনশাআল্লাহ, সেই নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা বিএনপি সবসময় পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেও গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

তিনি জানান, নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে বিএনপি তাদের শেষ প্রচারণা শেষ করেছে। দলের পক্ষ থেকে সুষ্ঠ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের জন্য WhatsApp গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো কার্যক্রম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী না হয়। এর ব্যতিক্রম হলে তা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ব্যালট বাক্স বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন সকালে ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে পৌঁছালে ভালো হতো। তবে অনেক কেন্দ্র দূরবর্তী হওয়ায় এবং শীতকালে ভোর দেরিতে হওয়ায় রাতেই পরিবহন করতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ব্যালট বাক্স স্বচ্ছ থাকবে এবং এজেন্টদের সামনে প্রকাশ্য স্থানে রাখা হবে, প্রিসাইডিং অফিসারের ব্যক্তিগত হেফাজতে নয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্যালট বাক্সে ইউনিক লকিং সিস্টেম রয়েছে। চারটি লক এজেন্টদের সামনে লাগানো হয় এবং ভোট শেষে আলাদা লক দেওয়া হয়। খোলার সময়ও সব তালা এজেন্টদের সামনে খোলা হয়। ফলে সবাই একজোট না হলে বাক্স ভরানো সাধারণভাবে সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি আগেই জানা সম্ভব নয়। নির্বাচন শুরু হলে বাস্তব অবস্থা বোঝা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত শোনা তথ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি সন্তোষজনক বলেই মনে হচ্ছে।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশে অনেক সময় বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনে শুধু আইন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন গণসচেতনতা ও গণপ্রতিরোধ। এই নির্বাচনকে কেউ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে জনগণই তা প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সারাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে: মির্জা ফখরুল
সারাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে: মির্জা ফখরুল
কোনো ভুল করা যাবে না, যাতে ভোটের ফলাফল ক্ষতি হয়
আবদুস সালাম: কোনো ভুল করা যাবে না, যাতে ভোটের ফলাফল ক্ষতি হয়
বিএনপি মিডিয়া সেলের আলী মামুদের মরদেহ উদ্ধার
বিএনপি মিডিয়া সেলের আলী মামুদের মরদেহ উদ্ধার