• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গাবতলীতে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ঘরমুখো যাত্রীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৩ পি.এম.
বাড়তি ভাড়া নিয়ে তাদের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে-ছবি: সংগৃহীত

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা ছুটি, ফলে বুধবার  (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাড়ি ফেরার আনন্দের সঙ্গে দেখা দিয়েছে অসন্তোষের ছাপও। যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, পরিবহনগুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। 

সকালে সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই যাত্রীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাকে টার্মিনাল মুখরিত। মোট বাসের সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

যশোর-খুলনাগামী ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জানান, ‘গত রাত পর্যন্ত যাত্রীদের চাপ প্রচণ্ড ছিল। আজ ভিড় কিছুটা কম, তবে যাত্রী আসা অব্যাহত রয়েছে। তাদের সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

মাগুরা-ঝিনাইদহগামী উত্তরা পরিবহনের কাউন্টারেও একই চিত্র। কর্মী আলামিন বলেন, ‘অধিকাংশ যাত্রী গতকালই চলে গেছেন। আজ অনেকে যাচ্ছেন। আমাদের বাসের কোনো সংকট নেই।’

তবে বাসের সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রয়্যাল পরিবহনে মাছকান্দি যাওয়ার জন্য টিকিট কাটছিলেন মো. আশিক। তিনি জানান, ‘ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ সময়ে ৪০০ টাকা। কেন বেশি নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলেও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাইনি।’

কুষ্টিয়াগামী জামান পরিবহনের যাত্রী সেলিম মিয়াও একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য সময় কুষ্টিয়া যাওয়া হতো ৪৫০ টাকায়। আজ ৫০০ টাকা নেওয়া হলো। কাউন্টারে সবার কাছ থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে।’

অতিরিক্ত ভাড়া বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের যুক্তি কিছুটা ভিন্ন। তারা বলছেন, বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়লেও ফেরার পথে একদম খালি আসে। রয়্যাল পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মোর্শেদ জানান, ‘গাবতলী থেকে বাস ভরে গেলেও ফেরার পথে কোনো যাত্রী পাওয়া যায় না। তেলের খরচ সামাল দিতে তাই ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।’

জামান পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সারা দিনে ৩ থেকে ৪টি বাস ছাড়ব। ঢাকা ছাড়ার সময় বাস ভরে থাকে, কিন্তু ফেরার পথে সব বাস খালি আসে। তেল, কর্মীদের বেতন ও টোল খরচ কমে না। তাই খরচ মেটাতে সামান্য ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।’  

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী সময় ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ এবং টানা ছুটির কারণে পরিবহন খাতের ওপর চাপ বেড়ে যায়। তবে নির্ধারিত ভাড়া না মেনে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ায় যাত্রীরা নৈতিকভাবে ক্ষুব্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

যাত্রীরা আশা করছেন, নির্বাচনের আগের এই দিনে প্রশাসন এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষ এমন ধরনের অযৌক্তিক ভাড়া আদায় বন্ধ করবেন। ভোটারদের নিরাপদ ও স্বস্তিপূর্ণ যাত্রার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

এভাবে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষদের আনন্দের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ। প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের সতর্ক পদক্ষেপ না হলে এই সমস্যা নির্বাচনী দিনে আরও গুরুতর রূপ নিতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে ব্যালট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম
কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে ব্যালট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম
ভোটের দিন কোন যান চলবে, কোনটি বন্ধ থাকবে
ভোটের দিন কোন যান চলবে, কোনটি বন্ধ থাকবে
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি