• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তারেক রহমান:

নির্বাচনে জয়লাভ করলে এককভাবে সরকার গঠন করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৮ পি.এম.
ডয়চে ভেলের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান -ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসা এবং নির্বাচনি ডামাডোলের মাঝে মাতৃবিয়োগের শোক সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সামলানো তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের মানুষ এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধভাবে উপভোগ করবে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দেবে। তিনি মনে করেন, ভরসাযোগ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এককভাবে সরকার গঠন ও শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অপরিহার্য। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে তাকে কেউ টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিএনপির নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সুযোগ উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। এছাড়া গৃহিণী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। প্রতিবন্ধী, তরুণ ও বয়স্ক সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈদেশিক নীতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো চুক্তি হলে স্বাভাবিকভাবে দূরত্ব তৈরি হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তারেক রহমান বলেন, সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে আর বিচার হবে না, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ভুক্তভোগী পরিবারের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা গুম বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যে সমস্যা হয়েছে তা দুর্নীতি নয়, ব্যবসায়িক কারণে ডিফল্ট হওয়া। বিগত সরকার বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাকর্মীদের উপর মামলা-হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা-সংস্থা ধ্বংস করেছে এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত করেছে। তাই অনেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে ডিফল্ট হয়েছেন, যা দুর্নীতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর হবে।

তারেক রহমানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, বৈদেশিক নীতিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল কার্যক্রমের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিএনপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ইশতেহার ও নীতি-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ইসিকে কঠোর ভূমিকার আহ্বান বিএনপির
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ইসিকে কঠোর ভূমিকার আহ্বান বিএনপির
হাসপাতালে রুহুল কবির রিজভী
হাসপাতালে রুহুল কবির রিজভী
পাতানো নির্বাচন হলে মেনে নেবে না জামায়াত
পাতানো নির্বাচন হলে মেনে নেবে না জামায়াত