অর্ধকোটি টাকাসহ জেলা জামায়াত আমির আটক:
‘সাজানো নাটক’ দাবি এহসানুল মাহবুবের

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে অর্ধকোটি টাকার বেশি নগদ অর্থসহ আটকের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে এবং উদ্ধার করা অর্থ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট নয়, বরং তা বেলাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত ব্যবসার টাকা।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এটি একটি সাজানো নাটক। তিনি (বেলাল উদ্দিন) ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত যাতায়াত করেন-এ বিষয়টি তিনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন। ব্যাংক বন্ধ থাকায় লেনদেনের সুবিধার্থে তার কাছে নগদ অর্থ ছিল। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
তিনি আরও বলেন, “একজন মানুষ ব্যবসা পরিচালনার জন্য বা পারিবারিক প্রয়োজনে নগদ অর্থ বহন করতেই পারেন। এয়ারপোর্টের মতো সীমিত চলাচলের একটি এলাকায় ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি একজন প্রবীণ ও দায়িত্বশীল নেতা। মানসিক চাপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।”
জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, জেলা আমিরের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধারের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, “এ অর্থ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট নয়। এটি তার গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা। জামায়াতে ইসলামী তাদের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করে।”
এহসানুল মাহবুব আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় প্রার্থী, এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি একটি দলকে অন্যায় সুবিধা দিতে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
এর আগে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় বেলাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। টাকার সঠিক পরিমাণ তখনও গণনা করা হয়নি বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় তার লাগেজে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অর্থের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অর্থের উৎস ও বহনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আটকের পর একটি ভিডিও বার্তায় বেলাল উদ্দিন বলেন, তার কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার মধ্যে এবং তা তার ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ। তিনি নিজেকে ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন এবং জানান, তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তি জানিয়েছেন তার কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধ কোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও অর্থ গুণে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গণনা করা হবে।” তিনি আরও জানান, অর্থের বৈধতা, উৎস এবং পরিবহনের কারণ যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি—সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় আটক করা হয়েছে; অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত নাটক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। অর্থের সঠিক পরিমাণ গণনা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







