উৎকণ্ঠা ও উৎসবের ভোট আজ

বহুপ্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ চলবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৫০টি দল। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ২৮। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নারী ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন। বিএনপির নারী প্রার্থী ১০ জন। তবে ইসলামী দলগুলোর নারী প্রার্থী নেই।
এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। ১৯৯৬ সালের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগবিহীন প্রথম এই নির্বাচনে বিজয়ী হবে কোন রাজনৈতিক দল বা জোট- তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে। ১৯৯৬ সালের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগবিহীন প্রথম এই নির্বাচনে বিজয়ী হবে কোন রাজনৈতিক দল বা জোট- তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটগ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবারের ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। গত দেড় দশকে ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকা মানুষেরা ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন। ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন ভোটার।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে উৎসবের আমেজ থাকলেও নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ে ব্যাপক উৎকণ্ঠাও রয়েছে। প্রার্থী ও ভোটাররা আগে থেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন।
সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে কেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ১৩টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭, পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার এবার ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।’
তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট ইসি। নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে বিরাজমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিচ্ছিন্ন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনা না ঘটলে পরিবেশ আরো সুসংহত হতো।’
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ







