সন্তানের কথা ভেবে আবেগে ভেঙে পড়লেন বুবলী

ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী শবনম বুবলী সম্প্রতি রুম্মান খানের পডকাস্টে হাজির হয়ে জীবনের নানা দিকের কথা খুললেন। পর্দায় হাসিখুশি ও গ্ল্যামারাস ইমেজ থাকা সত্ত্বেও বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি আবেগে ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে, ২০২০ সালে তার সন্তান শেহজাদ খান বীরের জন্মের সময়ের স্মৃতি বলতে গিয়ে বুবলীর চোখে অশ্রু আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে করোনা মহামারির সময় একাকীত্বের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন নায়িকা। সেই সময় তিনি মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। বুবলী পডকাস্টে বলেন, “সেই সময়টা ছিল আমার পুনর্জন্ম। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় আমেরিকায় থাকা এবং করোনার ভয়াবহতার সঙ্গে লড়াই করা সহজ ছিল না। তখন আমি মা হওয়ার যাত্রার প্রকৃত অনুভূতি বুঝতে পারিনি।” কথাগুলো বলার সময় তার কণ্ঠ জড়িয়ে আসে, এবং একপর্যায়ে নিজেকে সামলাতে পারেননি।
বুবলী আরও বলেন, “আমি আমার মাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি পৃথিবীতে। বাবা-মাকে সবাই ভালোবাসে, কিন্তু মায়ের জন্য আমার অনুভূতি আলাদা। মা সবসময় বলতেন-‘মা হলে বুঝবে।’ এই কথার প্রেক্ষাপটে আমি আমার সন্তানকে নিয়ে অনুভূতি আরও গভীর।”
পডকাস্টে নিজের ক্যারিয়ার ও পুরস্কার বিষয়ক অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন বুবলী। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে নবাগত হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পাওয়া তার জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা ছিল। পরিবারের অমতে শোবিজে আসা ও সেই পুরস্কার পাওয়া তার কাছে বিশেষ অর্জন। তবে পরবর্তীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ কিছু পুরস্কারের সুযোগ পাওয়ার আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও তা না পাওয়ার আক্ষেপও তার কণ্ঠে প্রতিফলিত হয়। বুবলী বলেন, “অনেক সময় জানানো হয়েছে যে আমি পুরস্কার পাচ্ছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাইনি। মনে হয়েছে, এটাই জীবনের অংশ।”
প্রসঙ্গত, বুবলীর সন্তান শেহজাদ খান বীর জন্মগ্রহণ করেন ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ড জিউস মেডিকেল হাসপাতালে। কাকতালীয়ভাবে, বুবলীর মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার সংখ্যাও ২১টি। ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই ও শাকিব খানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে তিনি কাজ ও সন্তানের প্রতি সময় দেন।
এই পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বুবলী আবেগপ্রবণ হয়ে মাতৃত্বের অনুভূতি, পরিবারিক ভালোবাসা ও চলচ্চিত্র জীবনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তার বক্তব্য দর্শক ও ভক্তদের কাছে মাতৃত্ব ও চলচ্চিত্র জীবনের নানা দিকের মানবিক দিক তুলে ধরেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







