দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পরিবর্তন এসেছে। একদিন আগেই দাম বাড়ানোর পর এবার প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দামের তথ্য প্রকাশ করে। সংগঠনটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই সংশোধিত মূল্য দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে।
বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশীয় বাজারের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রেখে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এ ছাড়া অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে। একই সঙ্গে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়মই কার্যকর থাকবে।
এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। সেদিনও প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।
সেই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
মাত্র একদিনের ব্যবধানে একই পরিমাণ অর্থ কমিয়ে আবার নতুন মূল্য নির্ধারণ করায় বাজারে স্বর্ণের দামে ওঠানামার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৯৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, ৪৮ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ দফা স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ২৯ বার কমানো হয়েছিল। ঘন ঘন মূল্য সমন্বয়ের কারণে দেশের স্বর্ণবাজারে দামের অস্থিরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য