• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ জেলা প্রশাসক আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা: প্রতিমন্ত্রী টুকু সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন-সুশাসনে সবাইকে পাশে চাইলেন সারিয়াকান্দির নবাগত ইউএনও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন মির্জা ফখরুল লুলাকে ‘চোর’ বললেন মিলেই, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল ব্রাজিল হাসপাতালের শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত হলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে শেষ ধাপে সরকার

জিরো টলারেন্স নীতিতে দেশজুড়ে অপরাধ দমন জোরদার

  নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় দেশব্যাপী সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত সাড়া দেওয়া, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করাই বর্তমান কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতাও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে আটক হয়েছেন ৩২ হাজার ৯০৮ জন। এছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি ও নিয়মিত পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চলমান অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ১০ হাজারের বেশি চকলেট বোমা।

আগ্নেয়াস্ত্রের তালিকায় রয়েছে পিস্তল, বন্দুক, এলজি, শুটার গান, রিভলভার, পাইপগান, শটগান, রাইফেল, সাবমেশিনগান (এসএমজি), এয়ারগান এবং একটি পেনগান।
মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি

একই সময়ে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় মাদক-সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে।

অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে আধুনিক সিসিটিভি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরো অংশ এখন সিসিটিভির আওতায় এসেছে। পাশাপাশি ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআইচালিত ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

তার ভাষ্য, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এ নজরদারি ব্যবস্থা ডাকাতি, মাদক পাচার, যানবাহন চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর ও আইনসম্মত অবস্থানে রয়েছে।

তার মতে, গত ১ মে থেকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অংশ নিচ্ছে।

তিনি জানান, বড় মাদকচক্র ধ্বংস, আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত অপরাধীদের পুনরায় অপরাধে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, হত্যা-সহ যেকোনো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির পুলিশ সদস্যদের অপরাধ দমনে কঠোর থাকার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে মানবিক ও শালীন আচরণ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নেই। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত দেখানো যাবে না।

ডিএমপি কমিশনার আরও নির্দেশ দেন, অবৈধ অস্ত্রধারী, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা দেখানো সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলমান অপরাধবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গড়ে প্রায় ৪০০ জন অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, সমন্বিত অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ভিওডি বাংলা/জা

 


 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্লেষণ হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্র বানিয়ে কী পেল ইরান
ছবি: ভিওডি বাংলা
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সংযত বিএনপি