• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চামড়া শিল্পে বিশ্বজয়ের প্রস্তুতি:

দরকার প্রযুক্তি ও নীতিগত সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চামড়া শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তৈরি পোশাক শিল্পের পর এটিই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। তবে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান নিতে হলে শুধু সম্ভাবনার কথা বললেই চলবে না; প্রয়োজন সুপরিকল্পিত কৌশল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সঠিক নীতিগত সহায়তা।

বিশ্বব্যাপী চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার বর্তমানে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। কিন্তু এত বড় বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব এখনও সীমিত। এই অংশীদারিত্ব বাড়াতে হলে প্রস্তুতি নিতে হবে বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের গুরুত্ব

হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরিত হলেও পরিবেশ দূষণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সাভারের শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (CETP) পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় নদী ও আশপাশের পরিবেশ দূষণ অব্যাহত রয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলা অপরিহার্য। এজন্য উন্নত রাসায়নিক ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্যানিং প্রক্রিয়াকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে হবে।

প্রযুক্তি ও অটোমেশনের প্রয়োজন

উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার শিল্পের দক্ষতা এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করবে। ডিজাইন থেকে ফিনিশিং পর্যন্ত প্রযুক্তি নির্ভর প্রক্রিয়ায় উৎপাদন খরচ কমানো ও অপচয় হ্রাস করা সম্ভব। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। উদ্যোক্তাদের এই রূপান্তরে উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা জরুরি।

কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সার্টিফিকেশন

কাঁচা চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি কমাতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও দ্রুত প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে ISO 14001 (পরিবেশ ব্যবস্থাপনা) ও ISO 9001 (গুণগত মান ব্যবস্থাপনা) সার্টিফিকেশন অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নীতিগত সহায়তা অপরিহার্য

চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতি দরকার। শুল্ক ও করের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা, কাঁচামাল আমদানিতে সহজলভ্যতা এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকে সরলীকরণ করলে উদ্যোক্তারা আরও উৎসাহিত হবেন।

এছাড়াও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন-
গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D): নতুন পণ্য উদ্ভাবন, গুণগত মান বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) মডেল কার্যকর হতে পারে।

দক্ষ জনবল তৈরি: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম জনবল গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত কোর্স চালু করা ও শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো দরকার।

ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণ: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের ব্র্যান্ডিং দুর্বল। বিদেশে নিয়মিত প্রদর্শনী, ট্রেড ফেয়ার, রোড শো আয়োজন এবং নতুন বাজার (যেমন ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা) লক্ষ্য করে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

টেকসই উন্নয়নের পথে

চামড়া শিল্পকে শুধু রপ্তানি আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক দায়বদ্ধতাসম্পন্ন একটি টেকসই শিল্পে রূপান্তরিত করতে হবে। কারণ এখন ক্রেতারা শুধু গুণগত মানই নয়, নৈতিক ও পরিবেশগত মানদণ্ডও মূল্যায়ন করেন।

যদি বাংলাদেশ প্রযুক্তি, পরিবেশ সচেতনতা ও নীতিগত সহায়তার সমন্বয়ে এই খাতকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে চামড়া শিল্প দ্রুতই তৈরি পোশাক খাতের মতো অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ডিএসই সূচক বাড়লো, লেনদেন ৩২৭ কোটি
ডিএসই সূচক বাড়লো, লেনদেন ৩২৭ কোটি
আলুর সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দিলো সরকার
আলুর সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দিলো সরকার
ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় ৩শ’ কোটি টাকার লেনদেন
ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় ৩শ’ কোটি টাকার লেনদেন