তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন রাজনীতি:
বিএনপি পিছিয়ে, আওয়ামী লীগ-এনসিপি এগিয়ে


তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে রাজনৈতিক লড়াই এখন আর শুধুই মাঠ বা রাজপথে সীমাবদ্ধ নয়। ভার্চুয়াল জগৎও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (সোশ্যাল মিডিয়া) বর্তমানে জনমত গঠনে অন্যতম হাতিয়ার। শিশু থেকে বৃদ্ধ-সবার চোখ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে। ফলে রাজনীতির প্রচার-প্রসারেও এই মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গত কয়েক বছরে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব উল্লেখযোগ্য ছিল। ৫ আগস্টের আগে এবং পরে রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচারণা, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুজব ও চরিত্রহননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে পতিত ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং নতুন গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি অনলাইনে অনেকটাই পিছিয়ে। দলীয় প্রচারণা এবং মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। যদিও মিডিয়া সেল ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (বিএনআরসি) গঠন করা হয়েছে, তবু তারা অনলাইনে প্রয়োজনীয় প্রভাব তৈরি করতে পারছে না। দলীয় পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় ও কারিগরি সক্ষমতার অভাব এ পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ।
তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরকার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী হাতিয়ার। এর সঠিক ব্যবহার নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে, আবার অপব্যবহার সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইন রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পতিত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী সমন্বিতভাবে ডিজিটাল কৌশল ও কনটেন্ট ব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তার করছে। বিএনপি বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে অনলাইন প্রচারণায় অনেকটা ছন্দপতনের শিকার। গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে অন্যান্য দল কিছুটা সক্ষম হলেও বিএনপি বেশ নিষ্ক্রিয়।
রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ত্রয়োদশ নির্বাচন সংক্রান্ত অপতথ্যের ৮৪% বিএনপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি প্রমাণ করে, বিএনপির অনলাইন কার্যক্রম শক্তিশালী করার প্রয়োজন কতটা জরুরি।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফাহিম মাশরুর বলেন, তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় ব্যয় করে, তাই প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের জন্য এটি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এনসিপি ও জামায়াত অনলাইনে সক্রিয় থাকায় এ মাধ্যমকে আন্দোলনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে বিএনপি দীর্ঘদিন মাঠ ও রাস্তায় কেন্দ্রীভূত ছিল।
বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, অনলাইনে তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য মিডিয়া সেল ও বিএনআরসি গঠন করা হয়েছে। দলের সামনে সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকায় বহুমুখী আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে বিএনপি, যার মধ্যে অনলাইন লড়াই গুরুত্বপূর্ণ।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ছড়ালেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকায় নেতিবাচক প্রচারণা কার্যকর হবে না। বিএনপি কখনও নেতিবাচক প্রচারণা চালাবে না।”
ভিওডি বাংলা/জা