“আমরা কুকুরের চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছি”: ফিলিস্তিনি নাগরিক


২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি নাগরিকরা প্রতিদিনই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। ইসরায়েলের হামলায় শিশু, নারী ও সাধারণ নাগরিকরা মারা যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র নিন্দা সত্ত্বেও ইসরায়েল হামলা থামাচ্ছে না। সম্প্রতি তারা গাজা সিটি দখলের জন্য নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আক্রমণ শুরু করেছে।
খাবার সংকটের কারণে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আর ত্রাণ সংগ্রহ করার মাধ্যমকেও ইসরায়েল লক্ষ্যবস্তু করেছে।
মোহাম্মদ মারুফ (৫০) নামে এক ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, “আমরা রাস্তায় পড়ে আছি। কুকুরের মতো? না, কুকুরের চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছি আমরা।” ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি পূর্বে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।
আরেক বাস্তুচ্যুত নাগরিক মোহাম্মদ আবু ওয়ারদা আলজাজিরা জানান, তিনি উত্তর গাজার জাবালিয়া থেকে পশ্চিম গাজার দিকে যাচ্ছেন। তবে সুনির্দিষ্ট গন্তব্য জানেন না। তিনি বলেন, “অবস্থা এত ভয়াবহ ছিল যে বেরোতে বাধ্য হয়েছি। যেখানে তাঁবু খাটাতে পারব, তা হবে ভাগ্যের ব্যাপার। নিরাপদ কোনো স্থান নেই; ইসরায়েলিরা সর্বত্র আক্রমণ চালাচ্ছে।”
সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, গাজা শহরজুড়ে হামলা আরও বাড়ছে। ঘরবাড়ি ও কমিউনিটি সেন্টার ধ্বংস হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবনধারা ভেঙে পড়েছে। দুর্ভিক্ষ, অনাহার ও পানিশূন্যতার মধ্যে মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে।
গতকাল গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের হামলায় আরও ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা শহরে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ জন। এছাড়া ১১ জন নিহত হয়েছেন রুটি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩,৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ভিওডি বাংলা/জা