• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের পথে গৌরীপুরের কৃষক সমাজ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি    ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ পি.এম.
মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের পথে গৌরীপুরের কৃষক সমাজ। ছবি: ভিওডি বাংলা

মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ফসলের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কৃষকদের মাঝে জৈব ও গোবর সারের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আমন ধান কাটার পর বোরো মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জমির উর্বরতা বাড়াতে কৃষকরা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জৈব সার ব্যবহারে।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমিতে জৈব, কম্পোস্ট ও গোবর সারের কালো কালো স্তূপ পড়ে আছে। জমি প্রস্তুতের পাশাপাশি বোরো বীজতলা তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলমান। যেসব জমির আমন ধান কাটা শেষ হয়েছে, সেসব জমিতে কৃষকরা ইরি-বোরো চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জৈব সার, কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট এবং কৃষকের নিজস্ব খামারে তৈরি সার ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

উপজেলার গৌরীপুর, ডৌহাখলা, ভাংনামারী, রামগোপালপুর, বোকাইনগর, অচিন্তপুর, মাওহা ও সহনাটী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শত শত কৃষক জমি প্রস্তুতের সময় গোবর ও জৈব সার ব্যবহার করছেন।

শালীহর গ্রামের মৃত সাবেদ আলীর পুত্র কৃষক মো. জালাল উদ্দিন (৭২) বলেন, “মানুষের যেমন কলিজা লাগে, মাটির কলিজা হইলো গোবর সার। গরুর গোবর, রান্নার ছাই আর বাড়ির ময়লা পচাইয়া নিজেরাই সার বানাই। কোনো খরচ নাই। এই সার দিলে মাটি নরম হয়, প্রাণ পায়, ধানও ভালো হয়।”

একই গ্রামের তরুণ কৃষক রতন মিয়া বলেন, পঁচা গোবর সার ব্যবহারে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের পরিমাণ কম লাগে এবং ফলনও বেশি হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জানান, খামারজাত কম্পোস্ট ও গোবর সার ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমছে। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উচাখিলা কেরামতিয়া আলিম মাদরাসার প্রভাষক ও আদর্শ কৃষক মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “মাটির প্রাণ হলো জৈব সার। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও একের পর এক ফসল চাষের ফলে জমির উর্বরতা কমে যায়। জৈব সার মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন শক্তি বাড়ায়।”

উপসহকারী কৃষি অফিসার সুমন সরকার জানান, জৈব সার মাটির জীবাণুর খাদ্য হিসেবে কাজ করে, মাটির গঠন উন্নত করে, জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অপর উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জৈব সার মাটির ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, পুষ্টি অপচয় রোধ করে এবং উপকারী অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা সর্বোত্তম ফলন নিশ্চিত করতে সহায়ক।

শালীহর গ্রামের কৃষক আব্দুল গণি বলেন, ফসল ও মাটি রক্ষার জন্য তারা প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে গোবর সার ব্যবহার করেছেন। একই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে জৈব সার ব্যবহারের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

রামগোপালপুর ইউনিয়নের বেরাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “সব ফসলেই এখন জৈব সার দিই। প্রায় বিনাখরচে পাওয়া যায়, তাই এর ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে।”

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, গৌরীপুরের কৃষকদের এই সচেতনতা মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।

ভিওডি বাংলা/ মোঃ হুমায়ুন কবির/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দিনের ভোট রাতে হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতেই গণভোট
আলী রিয়াজ দিনের ভোট রাতে হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতেই গণভোট
মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে টেকনাফ সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরী নিহত
মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে টেকনাফ সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরী নিহত
সৈয়দপুরে চুরির অপবাদে রাতে সালিশ, সকালে যুবকের আত্মহত্যা
সৈয়দপুরে চুরির অপবাদে রাতে সালিশ, সকালে যুবকের আত্মহত্যা