দুর্গাপুরে কাঁকড়া ক্রয়-বিক্রয় করে সংসার চলে সাাদেক আলীর

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার সাদেক আলী দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয়-বিক্রয় করে জীবনধারণ করছেন। বর্তমানে তিনি বিশেষভাবে দেশি কাঁকড়া ক্রয়-বিক্রয় করে সংসার চালাচ্ছেন। দেশি কাঁকড়া প্রতি কেজি ৮০ টাকায় তিনি কিনে ও বিক্রি করছেন।
সাদেক আলী জানান, তিনি আগে রুই, কাতলা, ব্রিগেড, সিলভার কাপ, মৃগেল, মিড়কা, জাপানি মাছ, চিতল, তেলাপিয়া, দেশি কই, জিওল, মাগুর, টেংরা, পুটি, নুনে-ধুদা, বোয়াল, শিং, চিংড়ি ও শোল সহ বিভিন্ন মাছ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব মাছ ক্রয়-বিক্রয় তিনি দুর্গাপুর উপজেলার কানপাড়া, শ্যামপুর, আলিপুর, গোপালপুর, কালিগঞ্জ, দাওকান্দি, হরিরামপুর, দুর্গাপুর সদরসহ পাশ্ববর্তী বাগমারার হাসনীপুর, মোহনগঞ্জ, কুমারিতলা, একডালা, মচমইল ও তাহেরপুরের হাট-বাজারে করতেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশি মাছের পাশাপাশি কাঁকড়ার চাহিদা অনেক বেশি। তাই তিনি কাঁকড়া আমদানি করে ক্রয়-বিক্রয় করছেন। দেশি কাঁকড়া ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এটি খুবই জনপ্রিয়। দুর্গাপুর ও বাগমারা উপজেলায় প্রচুর পুকুর, খাল ও বিল থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়া চাষ করা হয় না। তাই এখানে কাঁকড়া চাষ প্রায় নেই বললেই চলে।
সাদেক আলীর সংসারে মোট ৮ জন সদস্য রয়েছেন। তিনি জানান, অভাবের সংসার পরিচালনার জন্য কাঁকড়া বিক্রি করাই তার একমাত্র জীবনজীবিকা। ক্রেতারা ১ কেজি থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত কাঁকড়া কিনে যাচ্ছেন। কাঁকড়া শুধু স্বাদে সুস্বাদু নয়, এটি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণেও সহায়ক।
নওগাঁ জেলার আত্রাই ও রানীনগরের মৎস্য চাষীরা বড় বড় পুকুর ও দীঘিতে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। আত্রাই-রানীনগরের মৎস্য আড়তগুলো থেকে পাইকারি ক্রেতারা কাঁকড়া ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে বিক্রি করছেন। এছাড়া বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর ফলে মৎস্য চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন।
দুর্গাপুরের কাঁকড়া বিক্রেতা সাদেক আলী বলেন, নওগাঁ ও দুর্গাপুর থেকে আনা কাঁকড়ার পাইকারি দাম কম হলেও, খুচরা বাজারে পরিবহনের খরচ ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ার কারণে দাম কিছুটা বেশি পড়ছে। তবুও সাধারণ ক্রেতারা এটি কিনে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, একসময় নদী, নালা, খাল ও বিলগুলোতে কাঁকড়া সহজেই পাওয়া যেত। এখন মানুষের অধিক চাহিদার কারণে এটি খাল ও বিল থেকে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই তারা আত্রাই ও রানীনগরের মৎস্য আড়ত থেকে কাঁকড়া ক্রয় করে আসেন।
সাদেক আলী মনে করেন, যদি দুর্গাপুর ও বাগমারার পুকুর ও দীঘিতে বাণিজ্যিকভাবে দেশি কাঁকড়া চাষ করা হয়, তাহলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই উপকৃত হবেন। এটি স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন আয়ের উৎস হতে পারে এবং কাঁকড়া ক্রেতাদের চাহিদাও পূরণ হবে।
দেশি কাঁকড়া ক্রেতারা জানান, কাঁকড়া সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত। ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত উপকারী। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঁকড়া বিক্রয় করে সংসার চালাচ্ছেন। তাদের জন্য কাঁকড়া বিক্রয় একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা।
সাদেক আলী জানিয়েছেন, তার মতো অনেক মানুষ কাঁকড়া বিক্রয় ও পাইকারি-বিক্রয় ব্যবসায় নিয়োজিত হয়েছেন। তিনি দিনে দিনে আত্রাই ও রানীনগরের মৎস্য আড়তগুলো ঘুরে দাম অনুযায়ী কাঁকড়া কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ মানুষ ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন, আর তিনি পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করতে পারছেন।
সাদেক আলীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সততা স্থানীয় বাজারে তার কাঁকড়ার ব্যবসাকে সুনাম অর্জন করেছে। তিনি বলেন, কাঁকড়া চাষ ও বিক্রয় বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। এছাড়া দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টিগুণের চাহিদা পূরণে দেশি কাঁকড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশি কাঁকড়া চাষ ও বিক্রয়ে স্থানীয় যুবক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হতে পারে। এটি শুধু ব্যবসা নয়, এটি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
দুর্গাপুরে দেশি কাঁকড়া বিক্রির মাধ্যমে সাদেক আলী তার পরিবার পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজার ও ক্রেতাদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। আত্রাই-রানীনগরের মৎস্য চাষীরা কাঁকড়া চাষ ও বিক্রয় থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে কাঁকড়া চাষের সম্প্রসারণ হলে একদিকে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে ক্রেতাদেরও সুবিধা হবে।
ভিওডি বাংলা-মো. রমজান আলী/জা







