অফিসের ডেস্কে গাছ রাখুন

অফিসের একটানা কাজ, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং চাপপূর্ণ পরিবেশ-এসবের ফলে অনেক সময় মানসিক ক্লান্তি, একঘেয়েমি কিংবা মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। আধুনিক কর্মজীবনে এই চাপ কমাতে এবং কর্মপরিবেশকে আরামদায়ক করতে অফিস ডেস্কে ছোট একটি সবুজ গাছ হতে পারে দারুণ সমাধান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ রঙ মানুষের মস্তিষ্ককে প্রশান্ত করে এবং চোখকে আরাম দেয়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও গাছের দিকে তাকালে মানসিক চাপ কমে, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয় এবং কাজে নতুন উদ্যম ফিরে আসে। তাই অনেক করপোরেট অফিসেই এখন ডেস্ক বা কেবিনে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখার প্রবণতা বাড়ছে।
তবে অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও সীমিত আলোতে সব ধরনের গাছ টিকে থাকতে পারে না। তাই বেছে নিতে হবে এমন উদ্ভিদ, যেগুলো কম আলো, কম পানি ও কম যত্নেও ভালো থাকে।
এই তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় গাছ হলো মানি প্ল্যান্ট। এটি মাটিতে যেমন ভালো থাকে, তেমনি পানিতেও সহজে বেড়ে ওঠে। সবুজ কিংবা সোনালি পাতার মানি প্ল্যান্ট সিরামিক পাত্রে রাখলে ডেস্কের সৌন্দর্য যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবেশও হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
রঙিন সৌন্দর্য পেতে চাইলে বেছে নিতে পারেন গোলাপি সিঙ্গোনিয়াম বা লাল অগ্লাওনেমা। এই গাছগুলোর রঙিন পাতা মুহূর্তেই নজর কাড়ে এবং অফিসের নিরস পরিবেশে প্রাণের ছোঁয়া আনে।
যারা খুব কম যত্নে দীর্ঘস্থায়ী গাছ চান, তাদের জন্য পিস লিলি ও জিজি প্ল্যান্ট আদর্শ। পিস লিলির সাদা ফুল ও হালকা সুবাস মনকে ফুরফুরে রাখে। অন্যদিকে জিজি প্ল্যান্ট বাতাসের ক্ষতিকর উপাদান শোষণ করে ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
সৌভাগ্য ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক হিসেবে অনেকেই ডেস্কে লাকি ব্যাম্বু রাখতে পছন্দ করেন। কাঁচের পাত্রে পানি ও পাথরের সঙ্গে সাজানো এই গাছটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি ফেং শুই মতে এটি সৌভাগ্য ও শক্তির প্রতীক। তবে এই গাছটির জন্য হালকা প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস প্রয়োজন, তাই জানালার কাছাকাছি রাখাই উত্তম।
সব মিলিয়ে বলা যায়, অফিসের গুমোট পরিবেশে প্রকৃতির এই ছোট ছোঁয়া মানসিক চাপ কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং কর্মক্ষমতা উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অল্প কিছু যত্ন আর সঠিক গাছের মাধ্যমে আপনার একঘেয়ে ডেস্ক বদলে যেতে পারে এক টুকরো প্রশান্তির নীড়ে।
ভিওডি বাংলা/জা







