• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

দেশের ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৩ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চরম সংকটে থাকা ৯টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং যাদের খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, মূলত সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তাদের আর্থিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তবে চরম সংকটে থাকা ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)-কে আপাতত অবসায়নের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদের আর্থিক সূচক উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে গত বছরের মে মাসে মোট ২০টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ড মনে করে, তাদের বেশিরভাগ পরিকল্পনাই বাস্তবসম্মত নয়। শুনানি শেষে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে শেষ সুযোগ দেওয়া হলেও বাকি ৬টির ক্ষেত্রে অবসায়নের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার আমানতকারী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এই সংকট নিরসনে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আশ্বাস দেন, রুগ্ন এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগেই তাদের জমা রাখা মূল অর্থ ফেরত পাবেন।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে, যা দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। তবে এই ক্ষেত্রে একটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে—আমানতকারীরা কেবল তাদের জমা রাখা মূল টাকা ফেরত পাবেন, কোনো ধরনের সুদ দেওয়া হবে না।

বর্তমানে অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের প্রস্তুতি চলছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা হাজার হাজার আমানতকারীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভেজাল কসমেটিকস ও হোমকেয়ার পণ্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে
ভেজাল কসমেটিকস ও হোমকেয়ার পণ্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে
তালিকাভুক্ত ৫ এনবিএফআইয়ের শেয়ারে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরপতন
বন্ধের সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে ধাক্কা: তালিকাভুক্ত ৫ এনবিএফআইয়ের শেয়ারে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরপতন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা
প্রজ্ঞাপন জারি: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা