ভেজাল কসমেটিকস ও হোমকেয়ার পণ্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বুধবার এক সেমিনারে বক্তারা সতর্ক করেন, ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস, হোমকেয়ার এবং স্কিনকেয়ার পণ্যের ব্যাপক আগ্রাসনে দেশের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ত্বক, চুল ও শরীরের পরিচর্যার নামে বাজারে ছড়িয়ে পড়া এসব পণ্য দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ডিএনসিআরপি) সম্মেলন কক্ষে ‘ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন: ভোক্তার সুরক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নীতিমালা’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। ডিএনসিআরপি ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা এই সেমিনারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শিল্প উন্নয়নের দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারের প্রধান অতিথি ডিএনসিআরপি’র মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার রোধে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হবে। তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে হবে। মাননিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে ভোক্তার ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।” ফারুক আহম্মেদ আরও বলেন, হালাল ও মানসম্মত পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, কসমেটিকস শুধুমাত্র সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, ভেজাল ও নিম্নমানের আমদানিকৃত পণ্যের কারণে ত্বক ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুযোগে নিম্নমানের পণ্য বাজার দখল করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক বলেন, ভেজাল কসমেটিকস ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি, অ্যালার্জি, মানসিক বিপর্যয় এবং চরম হতাশা দেখা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অশনিসংকেত। তিনি ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি জোরদারের আহ্বান জানান।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন সুইট বলেন, দেশীয় কসমেটিকস শিল্প শক্তিশালী না হলে নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তিনি কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ককে স্বাস্থ্যসম্মত স্থানীয় উৎপাদনের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই মত প্রকাশ করে বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সাহিদ হোসেন বলেন, কাঁচামালের শুল্ক কমালে মানসম্মত উৎপাদন বাড়বে এবং এটি ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে।
আইবিএফবি’র সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সচেতন ভোক্তা ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান লাগেজ পার্টির মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য আমদানি বন্ধের দাবি করেন, যা জনস্বাস্থ্য ও দেশীয় শিল্প উভয়ের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সেমিনারে ডিএনসিআরপি’র পরিচালক আজিজুল ইসলাম, উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতান, বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন হুসাইন এবং সিনিয়র সাংবাদিক মনোয়ার হোসেনও বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একমত হন যে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সেমিনার থেকে উঠে আসে মূল প্রতিশ্রুতি-ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
ভিওডি বাংলা/জা







