নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট করলেন আজাদ

জাতীয় নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে-এমন দাবিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনোত্তর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ওই স্ট্যাটাসে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া কিছু বক্তব্য ও প্রচারণাকে তিনি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে আখ্যায়িত করেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার লেখেন, নির্বাচনের পরও অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে-এমন দাবি যারা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য সৎ নয়। তার ভাষায়, এই গোষ্ঠীটি কিছুদিন আগেও নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করার চেষ্টা করেছে। তখন তারা নির্বাচন আদৌ হবে কি না-এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন যখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে জাতীয় নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন ওই মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রমূলক ব্যাখ্যা ও অপপ্রচার ছড়াতে শুরু করেছে। এসব প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব বলেন, দুঃখজনক হলেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে এ ধরনের অপপ্রচারে অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, এসব দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। জনগণের বিভ্রান্ত হওয়ার মতো কোনো কারণও নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ও একমাত্র দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এর বাইরে সরকারের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক লক্ষ্য নেই।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলাফল বা ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়ে জড়িত থাকতে চায় না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছেই দায়িত্ব হস্তান্তরই এই সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি সবাইকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাওয়া যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সচেতন থাকা জরুরি। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই জনমত গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







