“আরমান চাচ্চু ফিরে এসেছে, বাবা ফিরেনি”: রাইতার আকুল আবেদন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুরের সাবেক ৩৮, বর্তমান ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ ৮ জনকে। সেই দিন থেকে নিখোঁজ সুমন। এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে থমকে গেছে একটি পরিবারের জীবন।
সেই সময় সুমনের বড় মেয়ে হাফসা ইসলাম রাইতা ছিল ছোট্ট শিশু। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছোট বোন আরোয়া স্কুলে পড়ে। কিন্তু বাবাহীন শূন্যতা আজও তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে গণসংযোগে অংশ নিয়ে রাইতা তার ফুপু ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক এবং ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলির পক্ষে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চান। এ সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিজের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা তুলে ধরেন।
রাইতা বলেন, “ব্যারিস্টার আরমান চাচ্চু ফিরে এসেছেন। আমি তাকে ছুঁয়ে দেখেছি। সেখানে আমার বাবা সুমনের গন্ধ খুঁজেছি। কিন্তু এক যুগের বেশি হয়ে গেলো, এখনো আমার বাবা ফিরে আসেনি।”
তুলি ফুপু আমার বাবাসহ যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছেন। আমি মিরপুর-১৪ বাসীর কাছে আকুল আবেদন করছি-আপনারা সবাই ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমার ফুপুকে বিজয়ী করুন। তাহলে জাতীয় সংসদে গুম হওয়া স্বজনদের পক্ষে শক্তভাবে কথা বলার একজন মানুষ পাবো।”
পরিবারের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাইতা জানান, “আমার ছোট বোন আরোয়া প্রতিদিন বাবার ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে-কবে বাবা আসবে? আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। আমার বৃদ্ধা দাদীমা, ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজেরা খাতুন, দরজায় কেউ কড়া নাড়লেই বলেন-তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দে, মনে হয় আমার সুমন ফিরে এসেছে। কিন্তু আজও সে আসেনি। আমার মা নাছিমা বেগম প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন, যদি হঠাৎ ফিরে আসে।”
তিনি যোগ করেন, “আমাদের জীবন যেন থেমে গেছে।” তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়ার পর আবারও তারা আশার আলো দেখছেন।
“ইনশাল্লাহ তুলি ফুপু বিজয়ী হলে আমার বাবাসহ যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের বিষয়ে সঠিক তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।”
এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী, নারীসমাজ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারা গুম হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন এবং মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
গণসংযোগে রাইতার কান্নাভেজা আবেদন উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। তার একটাই আকুতি-বাবাকে ফিরে পাওয়ার। আর সেই প্রত্যাশা নিয়েই সে জনগণের কাছে ভোটের আবেদন জানাচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







