• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সংঘর্ষের ঘটনায়

অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে: প্রেস সচিব

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৭ পি.এম.
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ফাইল ছবি

গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, ‘গত ১৮ মাস গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করেছে। তার পরও বারবার মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।’

প্রেস সচিব জানান, ‘শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এসময় আরো বহু নেতা-কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।’

শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, ‘জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন।’ প্রেস সচিব বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি গভীর অর্থবোধক—সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়।

ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই পোস্টকেই সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনাম করেন। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ‘সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করে বলেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।’

শফিকুল আলম সংবাদ সংগ্রহকে গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে।’ তার অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, সেটিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করে।’

এর আগে মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, ‘তখনও ভুল এবং অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। সেসময় একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে নয় ঘণ্টার বেশি আটকে রাখে এবং আরেকটি গ্রুপ সচিবালয়ে ভাঙচুর চালায়।’ তার মতে, ‘গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দিতে যাচ্ছিল।’

সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ‘সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।’

ভিওডি বাংলা/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শিবির ব্যক্তিগত জীবনাচরণে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে
ডাকসু নেত্রী তন্বী: শিবির ব্যক্তিগত জীবনাচরণে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার
‘বেঈমান ও প্রতারক’রা নতুন ধান্দায় : তাজনুভা জাবীন
‘বেঈমান ও প্রতারক’রা নতুন ধান্দায় : তাজনুভা জাবীন